Homeদেশমডেল গোরক্ষপুর: সাতটি পুরনিগমে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক শ্মশান পোষ্যদের জন্য

মডেল গোরক্ষপুর: সাতটি পুরনিগমে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক শ্মশান পোষ্যদের জন্য

resizeplus_eisamay_2026-09-28_5w9j828i_Pet-dog

নিউজ ডেস্ক: মানুষের জীবনের মতোই বহু পরিবারের কাছে পোষ্যও পরিবারের সদস্য। সেই পোষ্য মারা গেলে শেষকৃত্য নিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এবার সেই সমস্যার সমাধানে নজর গোরক্ষপুরের দিকে। পোষ্যদের দেহ সসম্মানে শেষকৃত্য করার জন্য অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোরক্ষপুরের মডেল অনুসরণ করে আরও সাতটি পুরনিগমে এই ধরনের পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

শহরাঞ্চলে পোষ্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মৃত্যুর পর দেহ সৎকারের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাধারণ জায়গায় মৃত পশুর দেহ ফেলে দেওয়া যেমন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই পোষ্যকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখভাল করা মানুষের কাছে সেটি অত্যন্ত আবেগের বিষয়। এই দুই দিক মাথায় রেখেই আধুনিক পদ্ধতিতে পোষ্যদের শেষকৃত্যের পরিকাঠামো তৈরির ভাবনা সামনে এসেছে।

গোরক্ষপুরে নজরকাড়া উদ্যোগ

গোরক্ষপুরে ইতিমধ্যেই পশুদের জন্য ক্রিমেশন বা ইনসিনারেশন ব্যবস্থার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হয়েছে। গোরক্ষপুরে পশু-সহ বিভিন্ন ধরনের ক্রিমেশন সিস্টেমের সরবরাহকারী সংস্থাও রয়েছে। একটি প্রযুক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পশুদের জন্য বিশেষ ইনসিনারেশন সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উচ্চ দক্ষতার দহন প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।

এই ধরনের ব্যবস্থায় মৃত পোষ্যের দেহ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দাহ করা সম্ভব। ফলে খোলা জায়গায় দেহ ফেলে রাখা বা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে দাহ করার প্রয়োজন কমে। একই সঙ্গে দাহের সময় নির্গত ধোঁয়া ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা যায়।

সাত পুরনিগমে ছড়াবে পরিষেবা

গোরক্ষপুরের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সাতটি পুরনিগমে পোষ্যদের জন্য বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়ার খবর সামনে এসেছে। উদ্দেশ্য একটাই—শহরের বাসিন্দাদের জন্য পোষ্যদের শেষকৃত্যের একটি নির্দিষ্ট, পরিচ্ছন্ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জায়গা তৈরি করা।

এই ধরনের পরিষেবা চালু হলে কুকুর, বিড়াল-সহ বিভিন্ন পোষ্যপ্রাণীর মৃত্যুর পর তাঁদের দেহ সসম্মানে শেষকৃত্য করার সুযোগ পাবেন মালিকেরা। বিশেষ করে শহরের ফ্ল্যাটবাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেখানে নিজের মতো করে মৃত পশুর দেহ সৎকার করা কঠিন, সেখানে এমন পরিকাঠামো কাজে আসতে পারে।

কেন বৈদ্যুতিক শ্মশান?

পোষ্যদের দেহ সৎকারে বৈদ্যুতিক বা আধুনিক ইনসিনারেশন ব্যবস্থা ব্যবহারের অন্যতম লক্ষ্য পরিবেশের উপর চাপ কমানো। কাঠের চিতায় দাহের তুলনায় আধুনিক ক্রিমেশন সিস্টেমে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দহন করা যায়। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ও অপারেশনাল দক্ষতার দিকটিও গুরুত্ব পায়।

গোরক্ষপুরে মানুষের জন্যও আধুনিক ক্রিমেশন পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগের নজির রয়েছে। রাজঘাটে বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আগে কাজ হয়েছিল এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর বিষয়টিও সেখানে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পোষ্যের শেষযাত্রায় বাড়ছে সংবেদনশীলতা

শহুরে জীবনে পোষ্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গত কয়েক দশকে অনেকটাই বদলেছে। বহু পরিবারে কুকুর, বিড়াল বা অন্য পোষ্যকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখা হয়। ফলে পোষ্যের মৃত্যুতে আবেগের পাশাপাশি তাঁদের শেষকৃত্য নিয়েও পরিবারের সদস্যরা এখন সচেতন।

এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরি হলে একদিকে যেমন একটি সুশৃঙ্খল পরিষেবা গড়ে উঠবে, অন্যদিকে পোষ্যপ্রাণীর দেহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা সহজ হবে।

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু শ্মশান তৈরি করলেই হবে না। কতগুলি প্রাণী একসঙ্গে দাহ করা যাবে, পরিষেবার খরচ কত হবে, সময়সূচি কী হবে, দেহ আনার জন্য কোনও ব্যবস্থা থাকবে কি না এবং দাহের পরে ছাই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, পোষ্যপ্রাণীর জন্য পৃথক ও আধুনিক শেষকৃত্যের ব্যবস্থা শহুরে নাগরিক পরিষেবার একটি নতুন দিক খুলে দিতে পারে। গোরক্ষপুরে যে ধরনের পরিকাঠামোর নজির রয়েছে, তার আদলে অন্য পুরনিগমগুলিতেও পরিষেবা ছড়িয়ে পড়লে পোষ্যপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হতে পারে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved