Homeজেলাব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে বড় উদ্বেগ, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে বড় উদ্বেগ, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

resizeplus_imgi_225_hq720

নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে প্রস্তাবিত তিন দিনের ব্যাংক ধর্মঘট ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। United Forum of Bank Unions বা UFBU-এর ডাকে আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর দাবিকে কেন্দ্র করেই মূলত এই আন্দোলন। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও এক দিনের ধর্মঘট হয়েছিল।

ধর্মঘটের আগে গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং Regional Rural Bank-এর শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ব্যাংক শাখা, অফিস, ATM-সংযুক্ত শাখা এবং Currency Chest-গুলিকেও ওই দিন সচল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, টানা কয়েক দিনের সম্ভাব্য পরিষেবা ব্যাঘাতের আগে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ সেরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

কেন এই ধর্মঘট?

ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলির প্রধান দাবি পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা। বর্তমানে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকে। সমস্ত শনিবার ছুটি করে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংক খোলার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। পাশাপাশি কর্মী সংগঠনগুলির একাধিক দাবি থাকলেও Performance Linked Incentive বা PLI সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, PLI ব্যবস্থা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থাই এখন আন্দোলনের প্রধান অমীমাংসিত দাবি।

কেন্দ্রের তরফেও ধর্মঘট না করার জন্য কর্মীদের আবেদন জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, ব্যাংকিং পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ATM-এ পর্যাপ্ত নগদ রাখার পাশাপাশি অত্যাবশ্যক পরিষেবা যতটা সম্ভব সচল রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের জন্য কী পরিস্থিতি?

ধর্মঘট হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকের শাখাভিত্তিক পরিষেবায়। নগদ জমা বা তোলা, চেক সংক্রান্ত কাজ, ডিমান্ড ড্রাফট, অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা এবং অন্যান্য কাউন্টার-ভিত্তিক লেনদেনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন ব্যাংক ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগেভাগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে ATM, UPI, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে ধর্মঘটের প্রভাবের কারণে নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবায় সাময়িক সমস্যা হতে পারে। নতুন প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলির উপর ধর্মঘটের প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

আরও বড় বিষয় হল, ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের আর্থিক সমাপ্তির সময়। ফলে ওই সময়ে ব্যাংকিং পরিষেবায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও নিষ্পত্তির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে কি না, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চলতে পারে। তবে ২৮–৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন কোনও নিশ্চিত ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি। বরং সরকারি নথিতে এই তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি বহাল থাকার কথাই উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি, যদি পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান না হয়।

ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের ব্যাংকিং পরিষেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের শাখায় গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন করার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের জন্য আগেভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন মূল বিষয়।

নয়াদিল্লি থেকে দেশের ব্যাংকিং পরিষেবা, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেটে নজর রাখছে NGTV News।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved