Homeকলকাতাদেবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে! বিস্ফোরক চার্জশিট পুলিশের

দেবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে! বিস্ফোরক চার্জশিট পুলিশের

নিউজ ডেস্ক; তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে আরও বড় আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তৃতীয়
resizeplus_Debraj-Chakraborty

নিউজ ডেস্ক; তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে আরও বড় আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তৃতীয় চার্জশিট জমা দিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। প্রায় ১৫০০ পাতার ওই চার্জশিটে দেবরাজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের অ্যাকাউন্টেই নয়, আরও একটি সংস্থার সঙ্গে বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য মিলেছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, দেবরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। এই লেনদেনগুলির উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া সম্পত্তির হলফনামা নিয়ে অভিযোগ থেকে। রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ ছিল, হলফনামায় তাঁদের সম্পত্তির সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়নি। একাধিক জায়গায় থাকা সম্পত্তি নির্বাচনের আগে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের দাবি, জগদীশপুর, রাজারহাট, থাকদাড়ি, তেঘরিয়া, শ্যামনগর, সাতগাছি এবং কালিম্পং-সহ বিভিন্ন জায়গায় থাকা সম্পত্তির তথ্য নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর এবং আর্থিক লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

এই মামলায় দেবরাজ চক্রবর্তীকে গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ। এরপর ৬ অগস্ট প্রথম চার্জশিট জমা পড়ে। এবার তৃতীয় চার্জশিটে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আরও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

চার্জশিটে সংগঠিত অপরাধ, সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জাল নথি তৈরি, প্রতারণা, অসাধুভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং জাল সিল ব্যবহারের মতো একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।

তবে চার্জশিটে পুলিশের দাবি থাকা এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলাটি বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved