Homeবিদেশশতবর্ষের বেন্টলি নিয়ে বিশ্বভ্রমণ! গুসকরায় দুই ব্রিটিশ বন্ধু, গন্তব্য শান্তিনিকেতন

শতবর্ষের বেন্টলি নিয়ে বিশ্বভ্রমণ! গুসকরায় দুই ব্রিটিশ বন্ধু, গন্তব্য শান্তিনিকেতন

নিউজ ডেস্ক: বয়স পেরিয়েছে ষাটের গণ্ডি। কিন্তু ভ্রমণের নেশায় এখনও থামেনি পথচলা। সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী দুই ভিন্টেজ গাড়ি। লন্ডনের দুই বাল্যবন্ধু রবার্ট ও জন শতবর্ষের কাছাকাছি পুরনো বেন্টলি নিয়ে
Screenshot 2026-09-15 004839

নিউজ ডেস্ক: বয়স পেরিয়েছে ষাটের গণ্ডি। কিন্তু ভ্রমণের নেশায় এখনও থামেনি পথচলা। সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী দুই ভিন্টেজ গাড়ি। লন্ডনের দুই বাল্যবন্ধু রবার্ট ও জন শতবর্ষের কাছাকাছি পুরনো বেন্টলি নিয়ে বেরিয়েছেন বিশ্বভ্রমণে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তাঁদের গাড়ি এবার এসে পৌঁছেছে বাংলায়। রবিবার সন্ধ্যায় ১৯২৬ সালের বেন্টলি ট্যুরার নিয়ে গুসকরা শহরে তাঁদের দেখা মেলে। সেখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য শান্তিনিকেতন।

গুসকরায় দুই পুরনো বেন্টলিকে দেখেই স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় প্রবল কৌতূহল। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি দুটির ছবি তুলতে দেখা যায় বহু মানুষকে। কেউ আবার এত পুরনো গাড়িকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেন। প্রায় একশো বছরের পুরনো গাড়ি এখনও যে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে, তা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়ের।

এই সফরে রবার্টের বয়স ৬৩ বছর। তিনি চালাচ্ছেন ৬.৫ লিটারের একটি ১৯২৬ সালের বেন্টলি, যেটি প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর সঙ্গী ৭২ বছরের জনের কাছেও রয়েছে একই সময়ের আর একটি বেন্টলি, যার ইঞ্জিনের ক্ষমতা ৬ লিটার। দুই বন্ধু নিজেদের প্রিয় ভিন্টেজ গাড়িকে সঙ্গী করেই ইতিমধ্যে চারটি মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ফেলেছেন।

শুধু গাড়ি চালিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখাও তাঁদের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতের পথে কেরলের কোঝিকোড়ে গিয়ে তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন ঐতিহ্যবাহী ‘উরু’ নৌকা তৈরির কাজ। সেখানকার শিল্প ও কারিগরি তাঁদের সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

ভারতে তাঁদের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মুম্বই থেকে। এরপর গোয়া, কর্ণাটক, ওয়েনাড এবং কেরলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তাঁরা এগিয়ে এসেছেন বাংলার দিকে। তার আগে উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর, চিলি ও বলিভিয়াতেও ভিন্টেজ গাড়ি নিয়ে সফর করেছেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়াতেও নিজেদের গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ সফর করেছেন দুই বন্ধু।

রবার্টের কথায়, পুরনো গাড়ির প্রতি তাঁদের ভালোবাসাই এই দীর্ঘ যাত্রার প্রধান প্রেরণা। বয়স তাঁদের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং ঐতিহাসিক গাড়িকে রাস্তায় নিয়ে বেরিয়ে নতুন জায়গা দেখা এবং মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়াই হয়ে উঠেছে তাঁদের জীবনের অন্যতম বড় আনন্দ।

এবার তাঁদের সফরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বাংলার এক বিশেষ আবেগ। শান্তিনিকেতন তাঁদের কাছে শুধুমাত্র একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা ও বিশ্বমানবতার চেতনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই শান্তিনিকেতনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। তাঁদের ইচ্ছা, শতবর্ষের কাছাকাছি পুরনো বেন্টলির চাকা একবার শান্তিনিকেতনের মাটিতে গড়াক।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে মোটরগাড়িরও ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে এই প্রসঙ্গও সফরের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তাঁরা। ভারতের বিভিন্ন জায়গা ঘোরার ক্ষেত্রে মুম্বইয়ের ড্যানিয়েল তাঁদের পথপ্রদর্শক হিসেবে সঙ্গে রয়েছেন।

গুসকরায় তাঁদের উপস্থিতি তাই শুধু ভিন্টেজ গাড়ি দেখার কৌতূহল তৈরি করেনি, বরং দুই প্রবীণ বন্ধুর অদম্য ভ্রমণস্পৃহাও স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে। প্রায় একশো বছরের পুরনো বেন্টলিকে সঙ্গী করে চার মহাদেশ পেরিয়ে তাঁদের এই যাত্রা যেন একই সঙ্গে ইতিহাস, বন্ধুত্ব এবং অভিযানের গল্প।

শান্তিনিকেতনের পথে এগিয়ে চলেছে সেই দুই বেন্টলি। আর রবার্ট ও জনের আশা এই ঐতিহাসিক গাড়ি নিয়ে তাঁদের বিশ্বভ্রমণের কাহিনিও একদিন হয়ে উঠবে নিজেই এক ইতিহাস।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved