Homeপশ্চিম বর্ধমানআসানসোলচালানে তালমিছরি-মুসুর ডাল, ট্রাকে আসলে চোরাই কয়লা! আসানসোলে পুলিশের জালে পাচারচক্র

চালানে তালমিছরি-মুসুর ডাল, ট্রাকে আসলে চোরাই কয়লা! আসানসোলে পুলিশের জালে পাচারচক্র

নিউজ ডেস্ক; চোরাই কয়লা পাচার করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে পাচারকারীরা। কখনও টোম্যাটোর ঝুড়ির নীচে কয়লা, কখনও আবার সিগারেটের কার্টনের আড়ালে লুকিয়ে চলছে বেআইনি কারবার। এ বার আরও অভিনব পদ্ধতির
resizeplus_Screenshot 2026-09-15 130937_edited

নিউজ ডেস্ক; চোরাই কয়লা পাচার করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে পাচারকারীরা। কখনও টোম্যাটোর ঝুড়ির নীচে কয়লা, কখনও আবার সিগারেটের কার্টনের আড়ালে লুকিয়ে চলছে বেআইনি কারবার। এ বার আরও অভিনব পদ্ধতির হদিস পেল পুলিশ। ট্রাকের ভিতরে বোঝাই করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কয়লা, অথচ চালকের হাতে থাকা নথিতে পণ্যের নাম অন্য কিছু!

আসানসোল শিল্পাঞ্চলে পর পর দু’টি ঘটনায় এমনই চিত্র সামনে এসেছে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলিশ একটি ট্রাক আটক করে প্রায় ৩০ টন চোরাই কয়লা উদ্ধার করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, ওই ট্রাকের চালকের কাছে থাকা চালানে কয়লার কোনও উল্লেখ ছিল না। সেখানে পণ্য হিসাবে দেখানো হয়েছিল তালমিছরি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে ওই ট্রাকটি আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানান, উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর থেকে ট্রাকটি নিয়ে ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার কথা ছিল তাঁর। জৌনপুর থেকেই তাঁকে তালমিছরির চালান দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি চালকের। পরে খালি ট্রাক নিয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রাকে তোলা হয় চোরাই কয়লা। সেই কয়লা পশ্চিমবঙ্গে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যেই রবিবার ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের চৌরঙ্গী ফাঁড়ি এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় একটি কয়লাবোঝাই ট্রাক থামানো হয়। ট্রাকটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ টন কয়লা উদ্ধার হয়। কিন্তু চালকের কাছে থাকা চালানে লেখা ছিল মুসুর ডাল। অর্থাৎ নথিতে এক পণ্য, আর ট্রাকে সম্পূর্ণ অন্য সামগ্রী।

এই ঘটনায় ট্রাকচালক কলুত খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও ঝাড়খণ্ড থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের আরও দাবি, বার্নপুরের রহমতনগর এলাকার একাধিক ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের নজরে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগে চোরাই কয়লা পাচারের ক্ষেত্রে সর্ষের তেল, অভ্র, সিলিকন এবং গুড়ের মতো বিভিন্ন পণ্যের নামে ভুয়ো চালান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বার তালমিছরি ও মুসুর ডালের চালানের ঘটনা সামনে আসায় তদন্তকারীদের অনুমান, পাচারকারীরা নিয়মিত ভাবে পণ্যের নাম বদলে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে।

যে সব সংস্থার নাম ওই ভুয়ো চালানগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলির অস্তিত্ব এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নথিতে থাকা কয়েকটি সংস্থার নামও ভুয়ো হতে পারে। পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং কোথা থেকে কয়লা সংগ্রহ করে কোথায় পাঠানো হচ্ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved