Homeকলকাতাপানিহাটিতে CESC-র বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে ১০টি দমকলের ইঞ্জিন

পানিহাটিতে CESC-র বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে ১০টি দমকলের ইঞ্জিন

নিউজ ডেস্ক : রবিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে CESC-র একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। ধানকল মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওই ভবনের একাধিক অংশ থেকে
Howrah sponge factory fire.jpeg (1)

নিউজ ডেস্ক : রবিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে CESC-র একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। ধানকল মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওই ভবনের একাধিক অংশ থেকে আগুনের শিখা এবং ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনা করে একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন সেখানে পাঠানো হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মোট ১০টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। বহুতল ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় দমকলকর্মীদের সামনে চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে হঠাৎ ওই ভবনে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমে একটি অংশে আগুন দেখা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভবনের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা মানুষজন নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন দমকলকর্মীরা। বহুতল ভবনের ভিতরে কোথা থেকে আগুন ছড়িয়েছে এবং কোন কোন অংশে আগুনের তীব্রতা বেশি, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। একাধিক ইঞ্জিন একসঙ্গে কাজে নামায় আগুনকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার পুলিশ। দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। আগুনের জেরে যাতে আশপাশের এলাকায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভবনের একটি ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ। স্থানীয় সূত্রে এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। তবে ট্রান্সফরমারে কোনও সমস্যা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন হবে।

ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ হয়ে থাকলে তার পরেই কী ভাবে আগুন ভবনের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ল, সেই বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে অগ্নিকাণ্ডের উৎস বা কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। দমকলের প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক অনুসন্ধানের পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবনের ভিতরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। কোনও ব্যক্তি ভিতরে আটকে পড়েছিলেন কি না, কিংবা অগ্নিকাণ্ডে কেউ আহত হয়েছেন কি না, সেই বিষয়টিও তখন আরও স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। বহুতল ভবনে আগুন লাগায় আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফলে দমকল বাহিনীর তৎপরতার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন স্থানীয়রা। একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতা শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়। অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এবং আগুন নেভানোর মূল দায়িত্ব বর্তমানে দমকল ও প্রশাসনের উপরই রয়েছে।

শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় সময় সময় বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো ঘিরে আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই তদন্তের আওতায় আসে। তবে পানিহাটির এই ঘটনায় ঠিক কোন কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

এই অগ্নিকাণ্ডে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আগুনের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। বহুতল ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন পৌঁছে যাওয়ার খবর পাওয়ায় দমকল বাহিনী একাধিক দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ভবনের কাঠামো, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং ভিতরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের কারণে আগুন নেভানোর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে থাকতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিস্থিতিকে নিরাপদ করা। তার পরেই ভবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের উৎস, আগুন কী ভাবে ছড়াল এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা ছিল কি না—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

রবিবার দুপুরের এই ঘটনায় পানিহাটি ও ধানকল মোড় সংলগ্ন এলাকায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির খবর না থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দমকলকর্মীদের কাজ শেষ হওয়ার পর ভবনটি নিরাপদ কি না, সেই বিষয়টিও পরীক্ষা করা হতে পারে। একই সঙ্গে আগুনের কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত পানিহাটির CESC ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved