Homeরাজ্যডিভিসির জল ছাড়ায় উদ্বেগে দামোদর পাড়! বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন রাস্তা-হাসপাতাল, সতর্ক প্রশাসন

ডিভিসির জল ছাড়ায় উদ্বেগে দামোদর পাড়! বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন রাস্তা-হাসপাতাল, সতর্ক প্রশাসন

resizeplus_ChatGPT Image Sep 3, 2026, 05_37_51 PM

নিউজ ডেস্ক: এক দিকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে টানা বৃষ্টি, অন্য দিকে ঝাড়খণ্ড ও বিহারে অতিবৃষ্টির জেরে জলাধারগুলিতে বেড়েছে জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি। আর সেই জল দামোদর নদের নিম্ন অববাহিকার দিকে নামতে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলির নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাধারগুলিতে জল জমার পরিমাণও বেড়েছে। সেই কারণেই নিয়ন্ত্রিত ভাবে জল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বুধবার থেকে মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইথন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে প্রায় ৬০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অর্থাৎ, দুই জলাধার মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার কিউসেক জল দামোদর নদ হয়ে দুর্গাপুর ব্যারেজের দিকে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জলও দুর্গাপুর ব্যারেজে জমা হচ্ছে। সূত্রের খবর, দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে। প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিউসেক জল নিম্ন অববাহিকার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেই জল পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন এলাকার দিকে পৌঁছনোর সম্ভাবনা থাকায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করেছেন। আগামী দিনে আরও কতটা জল ছাড়া হতে পারে, সেই বিষয়ে পরিস্থিতি বুঝে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নদীর জলস্তর এবং জলাধারগুলির পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।

উত্তর ২৪ পরগনায় জল জমে দুর্ভোগ

শুধু ডিভিসির জলই নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় স্থানীয় বৃষ্টির জল জমেও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার দমদম, পানিহাটি এবং বারাসতের বেশ কয়েকটি এলাকায় জল জমার খবর মিলেছে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলেরও কিছু জায়গায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

খড়দহ ও নৈহাটির কয়েকটি নিচু এলাকাতেও বৃষ্টির জল জমেছে। বনগাঁ শহর সংলগ্ন কিছু এলাকায় চাষের জমিতে জল দাঁড়াতে শুরু করেছে। ইছামতী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলা হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় জল জমলেও যান চলাচল এবং গণপরিবহণ পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রেল চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।

হুগলিতে নদীর জলস্তর নিয়ে উদ্বেগ

ডিভিসির জল ছাড়ার খবরে বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলির আরামবাগ মহকুমার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে। আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট ও পুরশুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দারা নদীর জলস্তরের দিকে নজর রাখছেন। খানাকুলের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ফেরিঘাটগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নদীপথে যাতায়াতের সময় নৌযাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে প্রবাহিত দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ-সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিভিসি থেকে ছাড়া অতিরিক্ত জল নদীগুলিতে পৌঁছলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

নিকাশির সমস্যায় হাসপাতালেও জল

হুগলির কিছু এলাকায় আবার সমস্যার কারণ নদীর জল নয়, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা। সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চক বাঁশবেড়িয়া ও শঙ্খনগরের কিছু রাস্তায় বৃষ্টির জল দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিকাশি ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করায় সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেও জল নামতে দেরি হচ্ছে।

পঞ্চায়েতের তরফে নিকাশি পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উত্তরপাড়াতেও একই ছবি দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জল জমেছে। উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চত্বরেও গোড়ালিসমান জল জমার খবর মিলেছে। ফলে রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জল পেরিয়েই একাংশের পরিষেবায় পৌঁছতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। হাসপাতাল চত্বরে জল জমার ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বীরভূমে বাড়ছে নদীর জল

গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে বীরভূমের কোপাই নদীর জলস্তর বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে কঙ্কালীতলা মন্দির এলাকাতেও। জলমগ্ন পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যারিকেড করা হয়েছে।

লাভপুর এলাকার কুয়ে নদীতেও জল বাড়তে শুরু করেছে। কাঁদরকুলা থেকে বাঘসিনা যাওয়ার রাস্তার একটি অংশ জলের নীচে চলে যাওয়ায় যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর জল আরও বাড়লে একাধিক গ্রাম প্রভাবিত হতে পারে।

মালদহে বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক

অন্য দিকে, মালদহেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গঙ্গার জলের চাপের জেরে কেশরপুর কালোটোন টোলা এলাকায় বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার খবর মিলেছে। প্রায় ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জল ভূতনি এলাকার দিকে ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সেচ দফতরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ী বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জলস্তর আরও বাড়লে সেই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েই চিন্তায় স্থানীয় বাসিন্দারা। মানিকচক ব্লকের ভূতনিচর এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এখন নজর বৃষ্টি, নদীর জলস্তর এবং ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণের দিকে। প্রশাসন সতর্ক থাকলেও পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া এবং উজানের বৃষ্টির উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved