Homeপূর্ব মেদিনীপুরতমলুকফাউন্ডেশন ডে-র বিরিয়ানি খেয়ে অসুস্থ ৪০! তাম্রলিপ্ত মেডিক্যালে তদন্ত কমিটি

ফাউন্ডেশন ডে-র বিরিয়ানি খেয়ে অসুস্থ ৪০! তাম্রলিপ্ত মেডিক্যালে তদন্ত কমিটি

aff749466c2c86ca61358739c64034b0_1429546921

নিউজ ডেস্ক; কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের আবহ বদলে গেল অসুস্থতার ঘটনায়। তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজে ফাউন্ডেশন ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবার খাওয়ার পর পড়ুয়া ও চিকিৎসকদের একাংশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ। পেট ব্যথা, ডায়েরিয়া, বমি বমি ভাব-সহ একাধিক উপসর্গ দেখা দেয় তাঁদের মধ্যে। কলেজ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধানকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৫০০ জনের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের একাংশ শারীরিক অসুস্থতার কথা জানাতে শুরু করেন। প্রথমে বিষয়টি কয়েক জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে অসুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারও পেট ব্যথা, কারও পাতলা পায়খানা, আবার কারও বমি বমি ভাব বা গা গোলানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

ঘটনার পরেই কলেজ চত্বরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যে খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল, তা থেকেই অসুস্থতা ছড়িয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। যদিও খাবারের কারণেই এই অসুস্থতা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কলেজ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র সৌমাল্য মিশ্রের দাবি, প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৫০০ প্যাকেট বিরিয়ানি আনা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরের দিন সকাল থেকেই কয়েক জন পড়ুয়ার পেটের সমস্যা শুরু হয়। পরে ডায়েরিয়া এবং বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গও দেখা দেয়। খাবারের মান বা সংরক্ষণ নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

অসুস্থদের মধ্যে কয়েক জনের শারীরিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রা দত্ত জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক-দু’জন পড়ুয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। তবে বর্তমানে কোনও পড়ুয়াই হাসপাতালে ভর্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অধিকাংশ অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং ওআরএস খেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

শুধু পড়ুয়ারাই নন, চিকিৎসকদের মধ্যেও কয়েক জনের একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আরও সতর্ক হয়েছে কলেজ প্রশাসন। একই অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পরে একাধিক মানুষের মধ্যে একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিষয়টির কারণ খুঁজে দেখা জরুরি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার তদন্তে যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তাতে রয়েছেন কমিউনিটি মেডিসিন, জেনারেল মেডিসিন এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানেরা। তিনটি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অসুস্থতার ধরন, খাবারের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক ছিল কি না এবং অন্য কোনও কারণে একই সময়ে এত জনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না— সব দিকই খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মেডিক্যাল কলেজে এমন ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এখানে চিকিৎসক এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়ুয়ারাই মূলত রয়েছেন। ফলে তাঁদের মধ্যেই একসঙ্গে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কলেজ প্রশাসনের নজরও দ্রুত ঘটনাটির দিকে যায়। যদিও আপাতত অধিকাংশ অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবুও ঘটনার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলেজে আগে থেকেই উৎসবের পরিবেশ ছিল। শিক্ষক, চিকিৎসক, পড়ুয়া এবং অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল ব্যস্ততা। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০০ জনের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই অসুস্থতার খবর সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই খাবারের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

তবে কোনও খাবারকে সরাসরি দায়ী করার আগে বৈজ্ঞানিক ভাবে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই ধরনের উপসর্গের নেপথ্যে খাদ্যে দূষণ ছাড়াও একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই মাইক্রোবায়োলজি এবং মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অধ্যক্ষ ইন্দ্রা দত্ত জানিয়েছেন, অসুস্থদের অধিকাংশই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। যাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল, তাঁরাও এখন আর হাসপাতালে ভর্তি নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং ওআরএস গ্রহণের মাধ্যমে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের মধ্যেও কয়েক জনের একই ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার পরে ভবিষ্যতে কলেজের অনুষ্ঠানগুলিতে খাবার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বড় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন হলে খাবারের গুণমান, প্রস্তুতির পরিবেশ, পরিবহণ এবং সংরক্ষণ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষত মেডিক্যাল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়গুলির গুরুত্ব আরও বেশি।

এখন মূল নজর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে। প্রায় ৪০ জনের অসুস্থতার কারণ কী, খাবারের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে একই সময়ে এই উপসর্গ দেখা দিয়েছে— রিপোর্টেই তার উত্তর মিলতে পারে। আপাতত কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং অসুস্থ পড়ুয়া ও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে।

ফলে ফাউন্ডেশন ডে-র খাবার ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তদন্তের ফলের অপেক্ষাই করতে হচ্ছে। অসুস্থদের অধিকাংশ সুস্থ হয়ে ওঠায় আপাতত স্বস্তি মিললেও, ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাই এখন তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved