Last updated: August 27th, 2026 at 12:14 pm

নিউজ ডেস্ক; রাজস্থানের কোটা শহরে ফের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG-এর প্রস্তুতি নিতে মধ্যপ্রদেশ থেকে কোটায় এসেছিলেন ২০ বছরের তরুণী খুশবু প্যাটেল। শহরের কুনহাড়ি থানা এলাকার ল্যান্ডমার্ক সিটির একটি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে সেখান থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী। যদিও ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। ফলে ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুশবু মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য NEET-UG পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পড়াশোনার সুবিধার জন্যই কোটায় থেকে কোচিং করছিলেন খুশবু। তাঁর সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন ছোট বোন খুশিও। তিনিও পড়াশোনার জন্য কোটায় রয়েছেন এবং JEE পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাতে ক্লাস শেষ করে বাড়িতে ফেরেন খুশি। ফ্ল্যাটে ঢোকার পর তিনি লক্ষ্য করেন, দিদির ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বেশ কয়েক বার ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া পাননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় নিরাপত্তারক্ষী এবং আশপাশের কয়েক জনের সাহায্য নেন খুশি। পরে তাঁদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়।
ঘরের ভিতরে ঢুকেই খুশবুকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কুনহাড়ি থানার পুলিশকর্মীরা। তাঁরা খুশবুর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার ওই এলাকার সার্কেল ইন্সপেক্টর দেবেশ ভরদ্বাজ জানান, খুশবু এর আগেও NEET পরীক্ষায় বসেছিলেন। গতবার পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল প্রায় ৪৫০। প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই ফের NEET-UG-তে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে পরীক্ষার ফল নিয়ে চাপই আত্মহত্যার কারণ কি না, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ফলে খুশবুর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর মোবাইল ফোন, পড়াশোনার নথি এবং সাম্প্রতিক সময়ের যোগাযোগও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে তদন্তের সব তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
কোটা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। NEET, JEE-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা সেখানে আসেন। শহরজুড়ে রয়েছে একাধিক কোচিং প্রতিষ্ঠান, হস্টেল ও ছাত্রাবাস। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া চিকিৎসা ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির লক্ষ্যে সেখানে পড়াশোনা করেন।
তবে একই সঙ্গে কোটায় পড়ুয়াদের মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যার ঘটনা নিয়েও বার বার প্রশ্ন উঠেছে। কঠিন প্রতিযোগিতা, পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রত্যাশা, পরিবারের চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার মানসিক ক্লান্তি—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অতীতে সতর্ক করেছেন। খুশবুর মৃত্যুর ঘটনাও সেই উদ্বেগকে ফের সামনে নিয়ে এল।
পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত কোটায় আটটি পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের সামনে পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে কোচিং সেন্টারগুলির মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং, মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও, এই ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা এখনও সম্ভব হয়নি।
খুশবুর পরিবারের জন্যও এই ঘটনা নিঃসন্দেহে গভীর শোকের। যে তরুণী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয়বার NEET-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুধুমাত্র পরীক্ষার ফল বা মানসিক চাপকেই এখনই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।
এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে, দেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির কেন্দ্রগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ সামলানোর জন্য আরও কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের মানসিক সুস্থতা, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments