Homeখেলাজার্সিতে টেপ কেন? বৈভবের দলীপ অভিষেকে ৮ রান, রহস্য ঘিরে বাড়ল জল্পনা

জার্সিতে টেপ কেন? বৈভবের দলীপ অভিষেকে ৮ রান, রহস্য ঘিরে বাড়ল জল্পনা

নিউজ ডেস্ক : দলীপ ট্রফিতে বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক। বয়স মাত্র ১৫। তার উপর দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বৈভব
2cc12017-e597-4e1b-993d-1ef33b131d94

নিউজ ডেস্ক : দলীপ ট্রফিতে বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক। বয়স মাত্র ১৫। তার উপর দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু ব্যাট হাতে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। নর্থ ইস্ট জোনের বিরুদ্ধে ইস্ট জোনের কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র ৮ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। তবে ম্যাচে বৈভবের ব্যাটিংয়ের থেকেও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর জার্সি। জার্সির নম্বরের একটি অংশ টেপ দিয়ে ঢাকা থাকায় ম্যাচের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

বেঙ্গালুরুর মাঠে দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ইস্ট জোনের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন বৈভব। তরুণ এই ক্রিকেটারকে ঘিরে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। বয়সের তুলনায় তাঁর ক্রিকেটীয় উত্থান ইতিমধ্যেই তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তার উপর ঈশান কিষাণের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকার বিষয়টিও আলাদা করে নজর কেড়েছিল।

কিন্তু প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি বৈভব। শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। পেসার বিশ্বরজিৎ কোনথৌজামকে পর পর দু’টি বাউন্ডারি মেরে নিজের আগ্রাসী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। মনে হয়েছিল, ক্রিজে কিছুটা সময় কাটাতে পারলে বড় রান করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের ষষ্ঠ বলেই বিশ্বরজিতের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাঁকে।

বৈভবের দ্রুত আউট হওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়। তবে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর জার্সির দিকে ক্যামেরা ঘোরাতেই তৈরি হয় নতুন কৌতূহল। দেখা যায়, জার্সিতে থাকা নম্বরের একটি অংশ টেপ দিয়ে ঢাকা। ফলে পুরো সংখ্যাটি স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল না। দৃশ্যত শুধু ‘৩’ সংখ্যাটিই দেখা যাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন জার্সির নম্বরের একটি অংশ এ ভাবে ঢাকা হয়েছিল, তার কোনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের অনুমান তৈরি হয়েছে। কেউ মনে করছেন, জার্সির নম্বর নিয়ে কোনও ব্যক্তিগত পছন্দ বা পরিবর্তনের কারণ থাকতে পারে। আবার টেপ লাগানোর বিষয়টি একেবারেই সাময়িক কোনও কারণে হয়েছিল কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। ফলে জার্সির এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ম্যাচের ফলাফল অবশ্য বৈভবের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে ইস্ট জোনের সামগ্রিক দাপটের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর ইস্ট জোন বেশ সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। দলের বড় স্কোর তৈরির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বাংলার দুই ক্রিকেটার সুদীপ কুমার ঘরামি এবং শাহবাজ আহমেদ।

প্রথম ইনিংসে একটা সময় চাপে পড়ে গিয়েছিল ইস্ট জোন। ১৩৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর বড় স্কোর নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন সুদীপ ও শাহবাজ। দু’জনেই শতরান করেন। সুদীপ কুমার ঘরামি ১৪৬ রান করেন, আর শাহবাজ আহমেদের ব্যাট থেকে আসে দুরন্ত ১৬৭ রান। তাঁদের বড় ইনিংসের সৌজন্যেই ইস্ট জোন প্রথম ইনিংসে ৪৬৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে।

বৈভব এবং ঈশান কিষাণের মতো ক্রিকেটাররা দ্রুত ফিরে গেলেও ইস্ট জোনের মিডল অর্ডার পরিস্থিতি সামলে নেয়। ফলে শুরুতে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বড় রানের ব্যবধানে পরিণত হয়। ব্যাট হাতে শাহবাজের শতরানের পর বল হাতেও তিনি দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।

ইস্ট জোনের ৪৬৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে নর্থ ইস্ট জোনের ইনিংস কার্যত ভেঙে পড়ে। মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ফলো-অন করতে বাধ্য হয় নর্থ ইস্ট জোন। ইস্ট জোনের বোলারদের মধ্যে নজর কাড়েন অভিজিৎ সরকার এবং শাহবাজ আহমেদ। অভিজিৎ একাই পাঁচটি উইকেট তুলে নেন। শাহবাজের ঝুলিতে যায় তিনটি উইকেট।

অর্থাৎ, ব্যাট এবং বল—দুই বিভাগেই শাহবাজের পারফরম্যান্স ইস্ট জোনকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে বড় রান এবং তার পর প্রতিপক্ষকে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে দেওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ইস্ট জোনের হাতে।

অন্য দিকে, বৈভবের জন্য দলীপ ট্রফির অভিষেকটা অবশ্যই প্রত্যাশামতো হয়নি। ব্যাট হাতে মাত্র ৮ রান করার পর জার্সির নম্বর নিয়ে তৈরি হওয়া কৌতূহল তাঁকে আরও এক বার আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে ক্রিকেটে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনও তরুণ ক্রিকেটারের সম্ভাবনা বিচার করা কঠিন। বিশেষ করে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ঘরোয়া ক্রিকেটের এমন বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর প্রতিভার প্রতি নির্বাচকদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এখন নজর থাকবে দলীপ ট্রফিতে বৈভব পরের ম্যাচে কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ান। প্রথম ম্যাচে দ্রুত আউট হলেও তাঁর ব্যাটিংয়ের আগ্রাসী ধরন এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ এখনও সামনে রয়েছে। আর জার্সির নম্বরের যে অংশটি টেপ দিয়ে ঢাকা ছিল, তার আসল কারণও সামনে আসে কি না, সেদিকেও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, দলীপ ট্রফির অভিষেকে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে বড় রান এল না। কিন্তু জার্সির নম্বর ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য এবং ম্যাচে তাঁর দলের দুরন্ত পারফরম্যান্স—দুই মিলিয়ে তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে আলোচনা থামছে না।


No Comments

তাজা খবর