
নিউজ ডেস্ক; স্কুলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের ভোগপুরে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর নাম সোমা জানা (১৪)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোগপুরের বাসিন্দা সোমা স্থানীয় ভোগপুর কেনারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও সাইকেল নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু স্কুলে পৌঁছনোর আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রেললাইনের পাশের রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল সোমা। রেললাইনের গা ঘেঁষে থাকা রাস্তা দিয়েই তার যাতায়াত ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি ট্রেন চলে আসে। অভিযোগ, ট্রেনটি ওই রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের বাইরে বেরিয়ে থাকা পাদানির সঙ্গে ধাক্কা লাগে সোমার।
ধাক্কার তীব্রতায় সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায় ওই স্কুলছাত্রী। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সোমাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিশ এবং স্থানীয় থানার পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় সোমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার পরও ওই কিশোরীর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সোমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভোগপুর এলাকায়। যে বয়সে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সেই স্কুলযাত্রাই যে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমা ভোগপুরেরই বাসিন্দা। বাবা শম্ভুনাথ জানার মেয়ে সোমা পড়াশোনায় নিয়মিত ছিল বলেও স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও সাইকেল নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রেললাইনের এত কাছ দিয়ে থাকা ওই রাস্তায় যাতায়াত কতটা নিরাপদ। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে ট্রেনের পাদানির সঙ্গে সোমার ধাক্কা লাগল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ট্রেনটি ওই সময় কতটা গতিতে চলছিল, রাস্তা ও রেললাইনের মধ্যে দূরত্ব কতটা ছিল এবং দুর্ঘটনার মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কারা উপস্থিত ছিলেন, ট্রেনটি কোন দিক থেকে আসছিল এবং সোমা ঠিক কোথায় সাইকেল চালাচ্ছিল, সেসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে পুলিশ। পাশাপাশি রেল পুলিশের তরফেও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই ভোগপুর এলাকায় শোকের আবহ। স্থানীয়দের কথায়, একটি ছোট্ট ভুল বা কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি পরিবারের জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সোমার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর সহপাঠী এবং পরিচিতদের মধ্যেও এই ঘটনায় শোকের ছায়া তৈরি হয়েছে।
রেললাইনের পাশের রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে এমন জায়গায় যেখানে ট্রেনের অংশ বাইরে বেরিয়ে থাকে, সেখানে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, তার জন্য রেল ও প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল এবং সেখানে কোনও গাফিলতি ছিল কি না। তবে তদন্তের ফল যা-ই হোক, মাত্র ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীর অকালে চলে যাওয়া গোটা ভোগপুরের মানুষের মনে গভীর শোকের ছাপ রেখে গেল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments