Homeজলপাইগুড়িধূপগুড়িপরকীয়ার অভিযোগ, খুঁটিতে বেঁধে ‘শাস্তি’!

পরকীয়ার অভিযোগ, খুঁটিতে বেঁধে ‘শাস্তি’!

নিউজ ডেস্ক: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি লজ থেকে এক যুগলকে ধরে এনে বাড়ির সামনে খুঁটির
resizeplus_Ai Image (2)

নিউজ ডেস্ক: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি লজ থেকে এক যুগলকে ধরে এনে বাড়ির সামনে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’জনেই বিবাহিত। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কথা পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়দের একাংশের কাছে পৌঁছনোর পর থেকেই শুরু হয়েছিল অশান্তি। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাই চরম আকার নেয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের খট্টিমারি এলাকার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কারা মারধরের ঘটনায় জড়িত এবং ঠিক কী কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুগলই একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের দু’জনেরই আলাদা সংসার রয়েছে। ওই মহিলার স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাইরে থাকেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বাড়িতে সন্তানকে নিয়ে ওই মহিলা থাকতেন। প্রায় দু’বছর আগে স্থানীয় এক মুরগি ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। ওই যুবকও বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কাছেও প্রকাশ্যে আসে বলে দাবি। এরপর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলেই স্থানীয়দের দাবি।

এর মধ্যেই ওই যুগল ধূপগুড়ির একটি লজে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের দেখতে পান পরিবারের কয়েক জন সদস্য। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় আরও কয়েক জন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এর পরই লজে গিয়ে দু’জনকে সেখান থেকে বার করে আনা হয়।

অভিযোগ, লজ থেকে বের করার পর প্রথমে ওই যুবককে মারধর করা হয়। পরে দু’জনকেই একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। বাড়ির সামনে একটি খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে যুগলকে একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের উপর চড়-থাপ্পড় এবং ঘুষি চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পূর্ব মাগুরমারি এলাকায় ওই বাড়ির সামনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমতে শুরু করে। কেউ কেউ ঘটনাটি দেখতে সেখানে পৌঁছন। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তার মধ্যেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ গিয়ে প্রথমে ওই যুগলকে উদ্ধার করে। পরে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল, কারা ওই দু’জনকে লজ থেকে নিয়ে এসেছিলেন এবং মারধরের ঘটনায় কারা জড়িত—তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে। একই সঙ্গে ওই যুগলের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মারধরের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ। কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের বা স্থানীয়দের আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে কাউকে আটকে রাখা, দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা কিংবা মারধর করার অভিযোগ উঠলে তা আলাদা আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। সেই কারণেই পুলিশের তদন্তে শুধু ওই যুগলের সম্পর্কের বিষয়টিই নয়, তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী আচরণ করা হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ওই যুগলের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই আলোচনা ছিল। কিন্তু বিষয়টি এতটা দূর গড়াবে, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। লজ থেকে দু’জনকে ধরে এনে প্রকাশ্যে বেঁধে রাখার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তদন্তের পরেই অভিযোগের প্রকৃতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়িতে এখন মূল প্রশ্ন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিবাদ কী ভাবে এমন মারধরের ঘটনায় পরিণত হল এবং কারা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন