Homeকলকাতাহাসপাতালে বুদ্ধদেব-পত্নী মীরা ভট্টাচার্য, ফুসফুসে সংক্রমণ, আপাতত স্থিতিশীল

হাসপাতালে বুদ্ধদেব-পত্নী মীরা ভট্টাচার্য, ফুসফুসে সংক্রমণ, আপাতত স্থিতিশীল

নিউজ ডেস্ক: হাসপাতালে ভর্তি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। বয়সজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ফুসফুসে সংক্রমণ-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা
মীরা ভট্টাচার্য

নিউজ ডেস্ক: হাসপাতালে ভর্তি প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। বয়সজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ফুসফুসে সংক্রমণ-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে কলকাতার আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে এইচডিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে।

মীরা ভট্টাচার্যের বর্তমান অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অনুগামীদের মধ্যে। তবে হাসপাতাল সূত্রে স্থিতিশীল থাকার খবর কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং শারীরিক পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে ২০২৩ সালের জুনেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল মীরা ভট্টাচার্যকে। সে সময় তাঁর পেসমেকারের ব্যাটারি বা পালস জেনারেটর পরিবর্তনের জন্য ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তিন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সেই চিকিৎসা হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছিল।

মীরা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কলকাতার পাম অ্যাভিনিউয়ের সরকারি আবাসনে বসবাস করছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও তাঁদের ঠিকানা ছিল ৫৯এ, পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই পরিচিত দু’কামরার ফ্ল্যাট। ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পরও মীরা ভট্টাচার্য সেখানেই থেকেছেন।

মীরা ভট্টাচার্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি বিষয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনের সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রশাসনিক সূত্রের উল্লেখ করে একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে বর্তমান সময়ে সেই রাজনৈতিক প্রসঙ্গের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক পরিস্থিতি।

ফুসফুসে সংক্রমণের পাশাপাশি বয়সজনিত দুর্বলতার কারণে তাঁকে হাসপাতালের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তবে সংক্রমণের মাত্রা, কী ধরনের চিকিৎসা চলছে কিংবা কত দিন তাঁকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে—এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত মেডিক্যাল তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাই চিকিৎসকদের পরবর্তী আপডেটের দিকেই নজর রয়েছে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মীরা ভট্টাচার্য বরাবরই ছিলেন প্রচারের আড়ালে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর পাশে থেকেছেন তিনি। বুদ্ধদেবের শেষ জীবনে অসুস্থতার সময়ও হাসপাতাল এবং বাড়ির চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা পরিস্থিতিতে তাঁকে পাশে দেখা গিয়েছিল।

এখন তাঁর নিজের অসুস্থতার খবর সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল—মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরবর্তী মেডিক্যাল আপডেটে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved