Homeজেলা২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতার পা ‘ভাঙেনি’? ডাক্তারি রিপোর্ট দেখিয়ে বড় দাবি শুভেন্দুর

২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতার পা ‘ভাঙেনি’? ডাক্তারি রিপোর্ট দেখিয়ে বড় দাবি শুভেন্দুর

eisamay_2026-10-03_q9tiw9oy_New-Project-2026-10-03T141030.931

নিউজ ডেস্ক; ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি। নিজের দাবির সমর্থনে এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসা-নথি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ২০২১ সালের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। এরপর শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে ফের সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এসএসকেএম হাসপাতালের রিপোর্টে ‘নো ফ্র্যাকচার’ লেখা রয়েছে। সেই চিকিৎসা-নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে গাড়িতে ছিলেন, তার খোলা দরজা রাস্তার ধারে থাকা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে তাঁর পায়ে লাগে। তাঁর অভিযোগ, চোটটি গুরুতর ছিল না। যদিও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন।

ঘটনাটি নিয়ে সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলে আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রচারের সময় বিপুল ভিড়ের মধ্যে তাঁর গাড়ির দরজা আচমকা পায়ে আঘাত করে এবং তিনি গুরুতর চোট পান। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁকে প্লাস্টার করা পায়ে দেখা যায় এবং হুইলচেয়ারে বসেই একাধিক নির্বাচনী সভায় যোগ দেন।

তবে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে চিকিৎসা-নথির ব্যাখ্যা। শুভেন্দু যে রিপোর্টের কথা বলছেন, সেটিতে তাঁর দাবি অনুযায়ী কোনও ফ্র্যাকচারের উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ২০২১ সালের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রকাশিত বিবরণে মমতার বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে হাড় এবং লিগামেন্টে গুরুতর চোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রিপোর্টের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ওই চিকিৎসা-নথি প্রকাশ্যে আনা হবে। তাঁর আরও দাবি, ২০২১ সালের ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সে সময় স্থানীয় নেতাদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার উপনির্বাচনের আবহে পুরনো সেই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্বাচনে শুভেন্দুর কাছে মমতা পরাজিত হন। পাঁচ বছর পর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারের সময় সেই পুরনো ঘটনাই ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved