Homeহাওড়াবালি জগাছাহাসপাতালের জমি প্রোমোটারের হাতে বিক্রির অভিযোগ, নিশ্চিন্দায় পথে স্থানীয়রা

হাসপাতালের জমি প্রোমোটারের হাতে বিক্রির অভিযোগ, নিশ্চিন্দায় পথে স্থানীয়রা

নিউজ ডেস্ক; হাসপাতালের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি জমি আবাসন তৈরির জন্য প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ। সেই জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে এ বার পথে নামলেন নিশ্চিন্দার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ৩ একরেরও
resizeplus_eisamay_2026-09-21_ybos4n4h_dez

নিউজ ডেস্ক; হাসপাতালের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি জমি আবাসন তৈরির জন্য প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ। সেই জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে এ বার পথে নামলেন নিশ্চিন্দার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ৩ একরেরও বেশি জমিতে কোনও আবাসন বা বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, তৈরি করতে হবে আধুনিক সরকারি হাসপাতাল। এই দাবিকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হয় নিশ্চিন্দার গ্যাসগ্রিড এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি হল্টের কাছে গ্যাসগ্রিড এলাকায় থাকা ওই জমির পরিমাণ প্রায় ১৮৩ কাঠা। আন্দোলনকারীদের দাবি, এত বড় জমিতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল তৈরির যথেষ্ট পরিসর রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল তৈরির কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সম্প্রতি ওই জমি আবাসন তৈরির জন্য প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে তৈরি হয়েছে ‘গ্যাসগ্রিড হাসপাতাল নির্মাণ কমিটি’। সংগঠনের উদ্যোগেই রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেন। পরে গ্যাসগ্রিড এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বজায় রাখা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, নিশ্চিন্দা এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্নত সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য অনেকটা দূরে উত্তরপাড়া অথবা কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে এই দূরত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রসূতি মহিলা, প্রবীণ এবং মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হয় বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।

তাঁদের বক্তব্য, নিশ্চিন্দায় যদি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল তৈরি হয়, তা হলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, আশপাশের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন। তাই হাসপাতালের জন্য ব্যবহারের উপযোগী এত বড় জমিতে অন্য কোনও প্রকল্প করা উচিত নয় বলেই দাবি তাঁদের।

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেছেন, ওই জমিটি কয়েক দশক আগে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে ১৯৬০ সালে জমিটি অধিগ্রহণ করা হয়। সে সময় কলকাতায় রান্নার গ্যাস সরবরাহের কাজে জমিটি ব্যবহার করা হত বলে দাবি তাঁদের।

গ্যাসগ্রিড হাসপাতাল নির্মাণ কমিটির সম্পাদক সুমন মিত্রের বক্তব্য, ওই জমির মোট পরিমাণ প্রায় ১৮৩ কাঠা। একসময় গ্যাস মজুত ও সরবরাহের কাজে জমিটি ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীকালে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে সেখানে হাসপাতাল তৈরির বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সুমনের আরও অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই মূল্যবান সরকারি জমি গোপনে হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র ৯ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জমিটি এক প্রোমোটারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে জমি হস্তান্তর ও বিক্রির বিষয়ে আন্দোলনকারীদের এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাঁদের দেওয়া তথ্যে নেই। একই ভাবে, যে প্রোমোটারের হাতে জমিটি হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্যও এই মুহূর্তে জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এবং স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, জমিটি ফের হাসপাতাল নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হোক। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।

একদিকে মূল্যবান সরকারি জমি নিয়ে হস্তান্তরের অভিযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের হাসপাতালের দাবি—দুইয়ের জেরে নিশ্চিন্দায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসন এই অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে এবং জমিটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।

No Comments

আরও পড়ুন