Last updated: October 14th, 2026 at 12:25 pm

নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA-কে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থী এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে বনগাঁয় বড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বনগাঁ শহরের দুটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসে তিনি জানান, যোগ্য উদ্বাস্তু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকবে না বলেই তাঁর আশা। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR-কে ঘিরে ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায় এবং ওপার বাংলা থেকে আসা বহু হিন্দু শরণার্থী। CAA-র অধীনে আবেদন করা সত্ত্বেও অনেকের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় বনগাঁর গান্ধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ এখনও CAA-র শংসাপত্র পাননি এবং তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সরকারকে CAA-র শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার দিয়েছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বনগাঁয় দাঁড়িয়ে তিনি আশ্বাস দেন, যোগ্য উদ্বাস্তু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জেলাশাসকের কার্যালয় থেকেই CAA-র শংসাপত্র পেতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন, আবেদন যাচাই এবং শংসাপত্র প্রদানের নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের আশঙ্কা, নাগরিকত্বের নথি এবং ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁদের ভোটাধিকার প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, নাগরিকত্বের আবেদন এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া যে এক বিষয় নয়, সেটিও মনে রাখা জরুরি।
CAA-র অধীনে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নথির বিষয়গুলি নির্দিষ্ট আইন ও সরকারি নিয়মের উপর নির্ভরশীল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তবে কত দ্রুত আবেদনকারীরা শংসাপত্র পান, সেদিকেও নজর থাকবে।
বনগাঁর সভা থেকে দেওয়া এই বার্তা মতুয়া ও উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কতটা আশ্বাস তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার। একই সঙ্গে CAA, SIR এবং ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনেও জারি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments