
নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ইলেকট্রিক ম্যাপ অ্যাপের সাহায্যে খুনের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সুবুধীপুরে ব্যবসায়ী হাবিবুল্লা পাইক খুনের মামলায় তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ডায়মন্ড হারবারের ফার্স্ট ট্র্যাক আদালত। বুধবার চার বছর ধরে চলা মামলার শুনানি শেষে এই সাজা ঘোষণা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি খুন হন হাবিবুল্লা পাইক। এই ঘটনায় আজগর লস্কর, আজাহার লস্কর এবং রবিউল সর্দারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার দিন সকালে মথুরাপুরের একটি জঙ্গল থেকে এক ব্যক্তির গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহের পাশে পড়েছিল কয়েকটি মদের বোতল। পরে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই ব্যক্তির কাটা মুণ্ডু এবং মোবাইল ফোন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ব্যক্তির নাম হাবিবুল্লা পাইক।
এর পরেই সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু হয়। গ্রেফতার করা হয় তিন জনকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আজগর লস্করের ভূমিকা সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তে উঠে আসে, স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুল্লার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করেছিলেন আজগর। তাঁর দাবি ছিল, কাজের সূত্রে বাইরে থাকার সময় স্ত্রীকে ফোন করলে প্রায়ই ফোন ব্যস্ত পেতেন। সন্দেহ দূর করতে একদিন স্ত্রীর অজান্তে মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং চালু করে রাখেন তিনি। সেই সূত্রেই স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুল্লার কথোপকথন সম্পর্কে জানতে পারেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
এর পরেই হাবিবুল্লাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন আজাহার লস্কর ও রবিউল সর্দারের সাহায্যে হাবিবুল্লাকে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মদ্যপান করানোর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য। দেহ এবং মাথা আলাদা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মদের বোতলও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। বোতলের ব্যাচ নম্বরের সঙ্গে এলাকার একটি মদের দোকানে বিক্রির নথির মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি, খুনের ঘটনাস্থলে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির অবস্থানও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ইলেকট্রিক ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের বিভিন্ন সূত্র একত্র করে পুলিশ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দিকে এগোয়। এই অ্যাপের ব্যবহার খুনের মামলার তদন্তে কীভাবে সহায়ক হয়েছিল, তা ঘটনাটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
চার বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে তিন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রযুক্তির ব্যবহার, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং অন্যান্য তদন্তমূলক সূত্র—সব মিলিয়ে মথুরাপুরের এই খুনের মামলা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments