Homeউত্তর ২৪ পরগনামধ্যমগ্রামবারাসত-মধ্যমগ্রামে সরকারি শিবিরে আছড়ে পড়ল মহিলাদের ক্ষোভ, পরিষেবা নিয়ে উঠল একাধিক প্রশ্ন

বারাসত-মধ্যমগ্রামে সরকারি শিবিরে আছড়ে পড়ল মহিলাদের ক্ষোভ, পরিষেবা নিয়ে উঠল একাধিক প্রশ্ন

eisamay_2026-10-02_qffnzr4k_a3we

নিউজ ডেস্ক: বারাসত-মধ্যমগ্রাম: সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত শিবিরকে ঘিরেই এবার ক্ষোভের মুখে পড়তে হল প্রশাসনকে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকায় আয়োজিত সরকারি শিবিরে এসে একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরে সরব হলেন মহিলাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা মিলছে না। ফলে শিবিরে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভও।

স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় তাঁরা শিবিরে এসেছিলেন। কারও প্রয়োজন ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার, কেউ এসেছিলেন নথি সংশোধন বা যাচাই করাতে, আবার কেউ সরকারি সুবিধার তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না, তা জানতে। কিন্তু শিবিরে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও অনেকের সমস্যা সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।

কয়েকজনের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ফের অন্য দিনে আসতে বলা হয়েছে। আবার কোথাও নির্দিষ্ট কাউন্টার বা পরিষেবা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় একাধিক জায়গায় ঘুরতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বয়স্ক মহিলা এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা মহিলাদের একাংশের সমস্যার কথা সামনে এসেছে।

শিবিরে উপস্থিত কয়েকজন মহিলা বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বার বার অফিসে ছুটে যাওয়া তাঁদের পক্ষে কঠিন। সেই কারণেই বাড়ির কাছাকাছি সরকারি শিবিরের খবর পেয়ে তাঁরা এসেছিলেন। কিন্তু এখানেও যদি প্রয়োজনীয় কাজ সম্পূর্ণ না হয়, তা হলে তাঁদের ফের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। এই কারণেই শিবিরে উপস্থিত মহিলাদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক পরিষেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিবিরে পর্যাপ্ত কর্মী, পৃথক সহায়তা কাউন্টার এবং পরিষেবাভিত্তিক স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমত। একই সঙ্গে আবেদন গ্রহণের পর তার বর্তমান অবস্থাও যাতে সহজে জানা যায়, সেই ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।

তবে শিবিরে কোনও ধরনের সমস্যা হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সরকারি পরিষেবা যাতে যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের শিবির আয়োজন করা হয়। কোথাও কোনও ত্রুটি বা সমন্বয়ের অভাব থাকলে তা পর্যালোচনা করা হবে।

বারাসত-মধ্যমগ্রামের শিবিরে মহিলাদের এই ক্ষোভ তাই শুধু একটি দিনের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ নয়, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠস্তরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি হয় কি না এবং ভবিষ্যতের শিবিরগুলিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।

No Comments