
নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে এখন ডিপ ডিপ্রেশনে পরিণত হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ল্যান্ডফলের পূর্বাভাস নেই। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে ঢুকতে পারে। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝামাঝি, কলিঙ্গপটনমের কাছাকাছি।
বুধবার সকালে সিস্টেমটির অবস্থান ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপটনম থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। বিশাখাপত্তনমের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং গোপালপুরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল সেটি। ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিমমুখী অগ্রসর হচ্ছিল ডিপ ডিপ্রেশনটি।
তাহলে বাংলার পরিস্থিতি কী?
সরাসরি ল্যান্ডফল না হলেও এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং কলকাতা-সহ বেশ কিছু এলাকায় মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরও বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জানিয়েছে।
এর পাশাপাশি সমুদ্র থাকবে উত্তাল। IMD-র সামুদ্রিক বুলেটিনে অন্ধ্র ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া এবং খুব উত্তাল সমুদ্রের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি রয়েছে।
পুজোর আগে টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জনজীবনে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে সমস্যা এবং খোলা জায়গায় চলা নির্মাণকাজে বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—‘অর্নব’-এর সম্ভাব্য ল্যান্ডফল বাংলায় নয়। বর্তমান IMD পূর্বাভাস অনুযায়ী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলই মূল ল্যান্ডফল অঞ্চল। স্থলভাগে ঢোকার পর সিস্টেমটির শক্তি ও গতিপথ কীভাবে বদলায়, তার উপরই বাংলার বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments