Homeজেলাবর্ধমানের শিশুমৃত্যু মামলা: ধৃত অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-র ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত

বর্ধমানের শিশুমৃত্যু মামলা: ধৃত অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-র ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত

eisamay_2026-10-13_g0p4yruc_banaj

নিউজ ডেস্ক: চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে আরও গতি এল। পলাতক অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-কে বোলপুরের একটি রিসর্ট থেকে গ্রেফতার করার পরে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তদন্তকারীরা সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানান। তবে বিচারক তিন দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ১৬ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে পেশ করার কথা।

গত ২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচার হয়েছিল চার বছরের অরণ্য রায়ের। ওই অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানাস্থেটিস্টের দায়িত্বে ছিলেন বনজকুমার দে। অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক শেখ সায়দুল হক। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু হতেই বনজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার পর থেকে পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন বনজ। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন না বলেও জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল তদন্তকারীদের। শেষ পর্যন্ত গাড়ির গতিবিধির সূত্র ধরে তাঁর খোঁজ মেলে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

সোমবার রাতে বোলপুরের একটি রিসর্ট থেকে বনজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরের দিন, মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পেশ করা হয় তাঁকে। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়ার প্রক্রিয়া, অস্ত্রোপচারের সময়কার পরিস্থিতি এবং চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।

এই মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক শেখ সায়দুল হককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিহার থেকে ভুয়ো চিকিৎসা-সংক্রান্ত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে প্রভাবশালীদের সাহায্যে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করে চিকিৎসার কাজ চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে সায়দুল নিজের চেহারা বদলে ফেলেছিলেন। দাঁড়ি-গোঁফ কামিয়ে দুবাই পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত এই শিশুমৃত্যুর ঘটনায় মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে অস্ত্রোপচারের পরে শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল, চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার কী ভূমিকা ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

বনজকুমার দে-কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। চার বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved