Homeজেলানাবালিকাকে কুপ্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, গোবিন্দপুরে টোটোচালককে ঘিরে বিক্ষোভ

নাবালিকাকে কুপ্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, গোবিন্দপুরে টোটোচালককে ঘিরে বিক্ষোভ

WhatsApp Image 2026-09-30 at 6.20.23 PM

সংবাদদাতা, রানাঘাট: এক নাবালিকাকে কুপ্রস্তাব, শারীরিক নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার গোবিন্দপুর কালীবাড়ি এলাকায়। অভিযোগের তির এক প্রবীণ টোটোচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে একটি টোটোর ভিতরে নাবালিকার সঙ্গে ওই ব্যক্তির ফোন নিয়ে কাড়াকাড়ির ঘটনা নজরে আসে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা টোটোচালককে আটকে রাখেন বলে দাবি। প্রত্যক্ষদর্শী বিশাল দাসের বক্তব্য, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। পুলিশের আসতে দেরি হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।

নাবালিকার অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব সামলাতে সে টোটো চালানোর কাজ করে। সেই সূত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার পর নানা ভাবে চাপ দিতে শুরু করেন। পরে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

নাবালিকার আরও অভিযোগ, তাকে মায়াপুরের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফের সেখানে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে সে। এমনকি ঘটনার দিন তাকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, নাবালিকার সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত টোটোচালক রতন দাস। তাঁর দাবি, নাবালিকা মদ্যপান করায় তাকে শাসন করার জন্যই তিনি ফোনটি নিয়ে নিয়েছিলেন। এর বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয় বলেই দাবি অভিযুক্তের।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাবালিকার বক্তব্য, অভিযুক্তের দাবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য—সব দিকই তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

নাবালিকার নিরাপত্তা এবং মানসিক পরিস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved