Last updated: October 8th, 2026 at 04:46 pm

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্ব ভবিষ্যতের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, শুধু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনও রাজনৈতিক নেতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিশ্চিত করে না। তবে নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাঁর সরকারের বিভিন্ন নীতি ভবিষ্যতের ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্যে উঠে এসেছে ইতিহাসের নানা উদাহরণও। তাঁর মতে, আকবর বা আওরঙ্গজেবের মতো শাসকরা এক সময় বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের শাসনকালের অনেকটাই ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মোদীর রাজনৈতিক সময়কালকে ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদরা একইভাবে দেখবেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর ধারণা আলাদা।
স্বপন দাশগুপ্তের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে মনমোহন সিংয়ের পর নরেন্দ্র মোদী যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তখন ভারতের সামনে একাধিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের সময়কালে দেশের সামগ্রিক সাফল্যের তুলনায় বহু ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত সাফল্যই বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। স্বপন দাশগুপ্তের মতে, তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক জাগরণ ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির প্রচলিত কাঠামোকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদী সেই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক পরিসরে কাজে লাগাতে সক্ষম হন।
মোদী সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্য, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয়তাবোধের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় তরুণদের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়েও জোর দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, আধার, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার, উজ্জ্বলা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো উদ্যোগকে তিনি প্রযুক্তি ও জনকল্যাণের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে সমাজের অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে।
বিদেশনীতি নিয়েও মোদী সরকারের ভূমিকার কথা বলেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহেও ভারত ইজ়রায়েল, ইরান এবং আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, রাশিয়া এবং আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টাও করেছে ভারত।
সব মিলিয়ে, স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্যের মূল সুর—নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক সময়কাল শুধু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক ভাষা, অর্থনৈতিক নীতি, প্রযুক্তিনির্ভর জনকল্যাণ এবং ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতের ইতিহাসে আলোচিত হতে পারে। তবে এই মূল্যায়ন তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের ইতিহাসচর্চাতেই নির্ধারিত হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments