Homeউত্তর ২৪ পরগনামধ্যমগ্রামনব্যদের হাতে আক্রান্ত আদি বিজেপি, মধ্যমগ্রামে তাণ্ডব, লোডশেডিং করে ভাঙচুর

নব্যদের হাতে আক্রান্ত আদি বিজেপি, মধ্যমগ্রামে তাণ্ডব, লোডশেডিং করে ভাঙচুর

eisamay_2026-10-07_bbpe2svw_bjp

নিউজ ডেস্ক: মধ্যমগ্রামের কৈপুলে আদি ও নব্য বিজেপির দ্বন্দ্ব ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। পুরনো বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা এবং এক কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দলেরই নতুন সদস্যদের বিরুদ্ধে। আক্রান্তদের দাবি, এলাকায় তোলাবাজি এবং দখলদারির অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাঁদের নিশানা করা হয়েছে। অভিযোগ, হামলার আগে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনায় মধ্যমগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত মধ্যমগ্রাম থানার কৈপুল গ্রামে। স্থানীয় পুরনো বিজেপি কর্মীদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁরা এলাকায় দলের হয়ে কাজ করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় আদি ও নব্য বিজেপির মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

পুরনো বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, নতুন করে দলে আসা কয়েকজন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও এলাকার দখলদারির অভিযোগও তোলা হয়েছে। সেই বিষয়েই প্রতিবাদ করায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি আক্রান্তদের।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় পুরনো বিজেপি কর্মী আশিস প্রামাণিককে কয়েকজন ঘিরে ধরে মারধর করেন। পরে দলের আর এক পুরনো কর্মী দীননাথ মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দীননাথ মণ্ডলের অভিযোগ, হামলার সময় এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় হামলাকারীরা। এই ঘটনায় তিনি পুলিশের পাশাপাশি আদালতেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নতুন করে দলে আসা লোকজনের দাপটে পুরনো বিজেপি কর্মীদের অনেকেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

অন্য দিকে, আশিস প্রামাণিকের অভিযোগ, ভোটের পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজনের তোলাবাজির বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও পক্ষকে দায়ী না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সে দিকেও নজর রাখছে পুলিশ।

কৈপুল গ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এই এলাকা বামেদের প্রভাবাধীন ছিল, পরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পায়। পুরনো বিজেপি কর্মীদের দাবি, সেই সময়েও তাঁরা প্রতিকূলতার মধ্যে দলের পতাকা হাতে কাজ করেছেন। তাই ভোটের পরে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মীর বিজেপিতে যোগদানকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশও ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেছে। দলের সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় কৈপুলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ভোটের আগে যেখানে সংগঠন দুর্বল ছিল, সেখানে ভোটের পরে এত নতুন বিজেপি কর্মী কী ভাবে এলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিজেপির নাম ব্যবহার করে তোলাবাজি হলে পুলিশকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একদিকে পুরনো কর্মীদের অভিযোগ, অন্যদিকে নতুন সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ—সব মিলিয়ে মধ্যমগ্রামের কৈপুলে বিজেপির স্থানীয় সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা ঘটনায় জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved