Last updated: September 25th, 2026 at 12:47 pm

নিউজ ডেস্ক:বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে নকল ডিসিআর বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। বৃহস্পতিবার সিউড়ি আদালতে এই মামলায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা এবং টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার কওসর আলিকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে দু’জনকেই পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর এই মামলার অভিযোগের গুরুত্ব বোঝাতে আদালতে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় টেনে আনেন বহু চর্চিত তেলগি কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথর পরিবহণের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য ব্যবহৃত ডিসিআর বই বিলির দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিৎ সাহা। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আসল সরকারি ডিসিআর বইয়ের নম্বর ব্যবহার করে পরবর্তীতে হুবহু নকল ডিসিআর বই তৈরি করা হয়েছিল। সেই নকল নথির মাধ্যমে সরকারি রাজস্বে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
তদন্তের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎ সাহাকে এর আগে একাধিকবার থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে গ্রেপ্তার করা হয় টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ম্যানেজার কওসর আলিকেও। তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিসিআর বই। সরকারি রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহৃত আসল ডিসিআর বইয়ের নম্বর কীভাবে বাইরে গেল, কার হাতে তা পৌঁছল এবং সেই নম্বর ব্যবহার করে কীভাবে নকল বই তৈরি করা হল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই নকল নথির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনিয়ম করা হয়ে থাকতে পারে।
আদালতে এই কারবারের সঙ্গে তেলগি কেলেঙ্কারির তুলনা করেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, আব্দুল করিম তেলগি যেমন জাল স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহার করে বড়সড় চক্র চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তেমনই টুলু মণ্ডলকে ঘিরে নকল ডিসিআর ব্যবহারের অভিযোগও একটি সুসংগঠিত কারবারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই তুলনা সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
অন্যদিকে ধৃতদের আইনজীবীরা পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, তদন্তে প্রকৃত মূল অভিযুক্তদের আড়াল করে অপেক্ষাকৃত নিচুতলার কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ধৃতদের অভিযুক্ত না করে সাক্ষী করা উচিত ছিল বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে। এই বক্তব্যের পর মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে এই মামলার তদন্তে আরও এক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে ওঠা নকল ডিসিআর কাণ্ডে সরকারি দফতরের কোনও অংশের যোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এখন পুলিশের তদন্তে মূল নজর থাকবে নকল ডিসিআর তৈরির পুরো চক্রের সন্ধানে। আসল ডিসিআর বই কোথা থেকে বাইরে গেল, নকল নথি কোথায় ছাপা হত, কারা তা ব্যবহার করত এবং এর মাধ্যমে কতটা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই মামলার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments