Last updated: October 8th, 2026 at 05:04 pm

নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা চরমে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ঢোকার সময় তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে চড়, লাথি মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে অন্য জেলার এক বিজেপি নেতার দিকে। বুধবার জলপাইগুড়ির বানারহাট ব্লকের শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার একটি ভিডিয়োও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্বাচনকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ননীগোপাল মল্লিক শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন করে উপপ্রধান নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সেই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পঞ্চায়েতের প্রধান নবীন রায় কার্যালয়ে পৌঁছন।
অভিযোগ, নবীন রায়কে পঞ্চায়েত অফিসের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে আটকাতে কার্যালয়ে তালা ঝোলানোরও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধান ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে কয়েক জন তাঁর উপরে চড়াও হন। নবীনের অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে চড় ও লাথি মারা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বানারহাট থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনায় যে ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তাতে এক ব্যক্তিকে প্রধানের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের বিজেপি নেতা কৌশিক নন্দী বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনের উত্তর দেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক সমীকরণও এই ঘটনার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে বিজেপি এবং তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা সমান বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, সিপিএম, কংগ্রেস এবং নির্দল সদস্যদের সমর্থন তৃণমূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। সেই কারণেই নির্বাচন বানচাল করতে পরিকল্পিত ভাবে গোলমাল তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
ঘটনার নিন্দা করেছেন ধূপগুড়ির বিজেপি বিধায়ক নরেশচন্দ্র রায়ও। তাঁর বক্তব্য, মাদারিহাট থেকে দলের কোনও নেতা এসে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তা বরদাস্ত করা হবে না এবং তদন্তের পরে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য দিকে, তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে কী ভাবে পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধর করা হল।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মারধরের অভিযোগ, ভিডিয়োর সত্যতা এবং উপপ্রধান নির্বাচন কেন ভেস্তে গেল—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে পঞ্চায়েতের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল উত্তরবঙ্গের ওই এলাকায়।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments