
নিউজ ডেস্ক: ফের জলের তলায় হুগলির খানাকুল ও গোঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা। নতুন করে জল ঢুকে একাধিক রাস্তা, স্কুল এবং চাষের জমি কার্যত জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল পৌঁছে গিয়েছে কোমর পর্যন্ত। ফলে একদিকে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, তেমনই নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনের জলবৃদ্ধির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ফের বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ। বহু বাড়ির আশপাশে জল জমে রয়েছে। কোথাও রাস্তার উপর দিয়ে স্রোত বইছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোতেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খানাকুলের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ছোট গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বেশ কিছু জায়গায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকার ফলে রাস্তার অবস্থাও দ্রুত খারাপ হচ্ছে।
জলের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও। বেশ কয়েকটি স্কুল চত্বর এবং স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোথাও স্কুলের মাঠ কার্যত পুকুরের চেহারা নিয়েছে। পরিস্থিতি দেখে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বহু জমিতে সদ্য চাষের কাজ হয়েছিল। সেই জমিতে জল জমে থাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। দীর্ঘ সময় জল না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
গোঘাটের বেশ কিছু এলাকাতেও একই ছবি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জল নামার আগেই নতুন করে জল ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোমরসমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় স্তরে জল সরানোর কাজও শুরু হয়েছে বলে খবর।
তবে ফের ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। ইতিমধ্যেই জলমগ্ন রাস্তা, স্কুল ও কৃষিজমি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত জল নামানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের পাশে প্রশাসন দাঁড়াক—এমনই দাবি উঠেছে খানাকুল ও গোঘাটের বিভিন্ন এলাকায়।
জলস্তর কতটা কমে এবং পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ। পুজোর মুখে ফের নতুন করে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে বাসিন্দাদের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments