
নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবার আরও তীব্র। শুক্রবার দিল্লির রাজপথে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন সমাজকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
দিল্লির জন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভ ঘিরে সকাল থেকেই ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। আন্দোলনকারীরা SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব, প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভারতদ্বাজ এবং CPI(M) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করার খবর সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়াই জমায়েতের চেষ্টা করা হয়েছিল। নিউ দিল্লি জেলায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করার নির্দেশও জারি ছিল বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে SIR নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে ভোটার তালিকা থেকে ‘কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম একতরফাভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে’—এই দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো প্রমাণ এই প্রতিবেদনগুলিতে পাওয়া যায়নি।
SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। The Indian Express-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবি, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশী ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অগস্টের মধ্যে ভোটার নথিভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং কমিশনের প্রযুক্তি ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতও বাড়ছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমতিহীন জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করাই পুলিশের পদক্ষেপের কারণ।
দিল্লির এই ধরপাকড়ের পর SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে; পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক কোন পথে এগোয়, নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদালতে চলা বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের ফল কী হয়—এখন নজর সেদিকেই।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments