Homeজেলাওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ হতে দিন’, মিলন প্রধানের মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট

ওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ হতে দিন’, মিলন প্রধানের মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট

resizeplus_images (36)

নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের দাবিতে রাজ্যের করা আবেদন সোমবার শুনেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। তবে ভোটের আগে মিলন প্রধানের জামিনে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “ওঁকে ভোটে লড়তে দিন। ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়।”

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। সেই ভোটের আগে মিলন প্রধানকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কোনও নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। মামলাটি ফের বুধবার, ৭ অক্টোবর শুনানির জন্য ওঠার কথা। ফলে আপাতত কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকছে এবং মিলন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু বছর আগে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। মামলাগুলির মধ্যে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, এই বিষয়গুলি বিবেচনা না করে অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখা উচিত নয়।

অন্য দিকে মিলন প্রধানের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর বক্তব্য, ২০০৭ সালের পুরনো মামলাকে সামনে রেখে নির্বাচনের ঠিক আগে মিলনকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। তিনি আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির আর্জিও জানান।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি এত বছর আগে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি হয়ে থাকে, তা হলে এতদিন কেন তা কার্যকর করা হয়নি? আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ সময় ধরে কোনও পদক্ষেপ না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট মিলন প্রধানকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য।

মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পরেই পুরনো মামলায় পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে। রাজ্য অবশ্য এই অভিযোগ মানেনি এবং মামলার আইনি দিকগুলিই আদালতে তুলে ধরেছে। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে।

তবে সোমবারের শুনানিতে একটি বিষয় স্পষ্ট—নন্দীগ্রামের ভোটের আগে মিলন প্রধানের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে আপাতত কোনও বাধা তৈরি করেনি সুপ্রিম কোর্ট। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের পর ৭ অক্টোবর ফের এই মামলার শুনানি হবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved