Homeজেলাআরও ৫ মামলার আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

আরও ৫ মামলার আশঙ্কা, রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

নিউজ ডেস্ক;নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে। পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা মিলন প্রধান এ বার তাঁর বিরুদ্ধে থাকা
resizeplus_eisamay_2026-09-21_2mcsnhxz_HC

নিউজ ডেস্ক;নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে। পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা মিলন প্রধান এ বার তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় পুলিশি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সোমবার তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন। আদালত আবেদন দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

মিলন প্রধানের আইনজীবীর বক্তব্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে ‘শো অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, একটি মামলায় আদালত থেকে স্বস্তি বা জামিন মিললেও অন্য কোনও মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার দেখানো হলে জেল থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই অতিরিক্ত পাঁচটি মামলায় আগাম সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৮ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম থানায় নথিভুক্ত ২০০৭ সালের পুরনো মামলাগুলির সূত্রে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি থাকা একাধিক নন-বেলেবল গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলাগুলির অভিযোগের মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ নষ্ট করা, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অস্ত্র-সহ দাঙ্গার মতো গুরুতর ধারার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। মামলাগুলি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়কার বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেফতারের পর হালদিয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে মিলন প্রধানের জামিনের আবেদন খারিজ হয়। তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ফলে ৬ অক্টোবর নির্ধারিত নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগও আপাতত তাঁর হাতে নেই। নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার কথা ৪ অক্টোবর।

এর মধ্যেই নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। আইনজীবীর দাবি, এই মামলাগুলির উল্লেখ মিলন প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামাতেও করেছিলেন। হাইকোর্টে তিনি আপাতত সেই পাঁচটি মামলায় সুরক্ষা চাইছেন। যে মামলাগুলিতে তিনি ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন, সেগুলির ক্ষেত্রে এই আবেদনে কোনও স্বস্তি চাওয়া হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

মামলার শুনানিতে আইনজীবী আদালতের কাছে জানতে চান, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে আর কী কী মামলা রয়েছে এবং সেগুলিতে তাঁকে যাতে নতুন করে গ্রেফতার না করা হয়, সেই বিষয়ে সুরক্ষা দেওয়া হোক। কারণ একের পর এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আশঙ্কা থাকলে একটি মামলায় আইনি স্বস্তি পেলেও অন্য মামলার কারণে তাঁর হেফাজত অব্যাহত থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাই তাঁর পক্ষের আইনজীবী আদালতে তুলে ধরেছেন।

অন্য দিকে, পুলিশ জানিয়েছে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি দীর্ঘদিনের এবং সেগুলির ভিত্তিতে আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রেফতারির বিষয়টি পুরনো মামলার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ বলেই পুলিশের বক্তব্য।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোট হওয়ার কথা। তার আগে হাইকোর্টের মঙ্গলবারের শুনানিতে পাঁচটি অতিরিক্ত মামলায় মিলন প্রধান কী ধরনের আইনি সুরক্ষা পান, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্টদের।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved