Homeজেলাঅনাস্থায় পঞ্চায়েত সমিতি থেকেই বিদায় আরাবুলের

অনাস্থায় পঞ্চায়েত সমিতি থেকেই বিদায় আরাবুলের

resizeplus_eisamay_2026-04-01_60n2hgk9_as

নিউজ ডেস্ক: ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে আরাবুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে ফের বড় পরিবর্তন। সভাপতি পদ থেকে তাঁকে সরানোর দাবিতে এবার অনাস্থা প্রস্তাবে সই করলেন ৩০ সদস্যের মধ্যে ২২ জন। বৃহস্পতিবার ওই সদস্যেরা বিডিওর কাছে অনাস্থার প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া এগোলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে আরাবুলের অপসারণের পথ তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির ৩০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আইএসএফ পেয়েছিল পাঁচটি আসন এবং জমি কমিটি তিনটি আসন পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আইএসএফ ও জমি কমিটির একজন করে সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃণমূল বোর্ড গঠন করে এবং সভাপতি হন আরাবুল ইসলাম।

এরপর অবশ্য ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে একাধিক পরিবর্তন ঘটে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আরাবুলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতারের পর দীর্ঘ সময় তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন আরাবুল। নির্বাচনের পর ফের পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে তাঁর যাতায়াত শুরু হয়।

এরপরই সভাপতি পদ নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত অগস্টে আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার উদ্যোগ নেয় আইএসএফ-সহ বিরোধী সদস্যদের একাংশ। সেই সময় ২১ জন সদস্যের স্বাক্ষর-সহ প্রস্তাব জমা পড়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে গড়ায় এবং আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত অনাস্থা বৈঠক সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল।

এবার সেই অনাস্থা প্রক্রিয়াই ফের সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার ২২ জন সদস্য বিডিওর কাছে গিয়ে প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন বলে জানা গিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১৭ জন তৃণমূলের এবং পাঁচ জন আইএসএফের সদস্য। অর্থাৎ দুই রাজনৈতিক শিবিরের সদস্যদের স্বাক্ষর মিলিয়েই অনাস্থা প্রস্তাবটি জমা পড়েছে।

এদিকে কয়েক দিন আগেই আইএসএফের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছিলেন আরাবুল। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে আইএসএফের তরফে আরাবুলের সভাপতির পদ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।

অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়লেও পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের উপরই চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে। আদালতের নতুন কোনও নির্দেশ বা অন্য কোনও আইনি জটিলতা তৈরি না হলে প্রক্রিয়াটি এগোতে পারে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, এখন সেই প্রশ্নই সামনে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved