Last updated: October 15th, 2026 at 12:29 pm

নিউজ ডেস্ক: আট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর চার হাত এক হয়েছিল। নতুন সংসার, প্রথম দুর্গাপুজো, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর কত স্বপ্নই না ছিল চোপড়ার সৌভিক দাস ও নিকিতা সাহার। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সেই স্বপ্নের পথে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বারবিকিউ বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হন নিকিতা। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন সৌভিকও। এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চালাচ্ছেন নিকিতা। আর তাঁর পাশে দিনরাত রয়েছেন স্বামী সৌভিক।
একসময় তাঁদের প্রেমের গল্পে ছিল লুকিয়ে দেখা করা, বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে পড়ার পরে চুপিসারে ফোনে কথা বলা। এক-দু’বছর নয়, দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পরে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। নতুন জীবনের শুরুতে প্রথম দুর্গাপুজোও কাটিয়েছিলেন আনন্দে। একসঙ্গে ঠাকুর দেখা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, ছবি তোলা—সবই ছিল সেই দিনগুলির স্মৃতি। কিন্তু এ বছরের পুজো তাঁদের জীবনে নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। চারদিকে উৎসবের আলো, ঢাকের আওয়াজ আর আনন্দের আবহ। আর অন্যদিকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়ছেন নিকিতা। তাঁর হাত ধরে পাশে বসে রয়েছেন সৌভিক।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মধুচন্দ্রিমায় কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ে গিয়েছিলেন নবদম্পতি। সেখানকার একটি হোমস্টেতে বারবিকিউ করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে নিকিতার শরীরের ৬০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হন সৌভিকও। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের সফর পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। হোমস্টের মালিক-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রশাসনের তরফে হোমস্টেটি সিলও করে দেওয়া হয়। প্রথমে নিকিতাকে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতার বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শরীরের এতটা অংশ পুড়ে যাওয়ায় প্রথম থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এখন কিছুটা আশার খবর মিলছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নিকিতার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন। শরীরে সংক্রমণের মাত্রাও অনেকটা কমেছে বলে খবর। যদিও এখনও মাঝেমধ্যে তীব্র যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি চলছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার লড়াই।
এই কঠিন সময়ে স্ত্রীর পাশে থেকে সাহস জোগাচ্ছেন সৌভিক। বারবার তাঁকে আশ্বস্ত করছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্ত্রীকে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টান যেন এই বিপর্যয়ের মধ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রিয় মানুষের সঙ্গও নিকিতাকে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁদের পরিচিতরা।
যে বয়সে নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার কথা, যে সময়ে প্রথম পুজোর আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই সময়েই জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি এই দম্পতি। তবু আশা ছাড়ছেন না সৌভিক। স্ত্রীর হাত ধরে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি।
আট বছরের অপেক্ষার পরে যে সম্পর্ক পূর্ণতা পেয়েছিল, সেই সম্পর্কের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। হাসপাতালের ঘরে আপাতত উৎসবের কোনও রং নেই। রয়েছে শুধু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা, একসঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন। নিকিতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তাঁদের পরিবার, পরিচিতজন এবং শুভানুধ্যায়ীরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments