Last updated: October 15th, 2026 at 12:31 pm

নিউজ ডেস্ক: তিন দশকেরও বেশি আগে মৃত্যু হয়েছে। অথচ জমির দলিল তৈরির সময় তাঁকেই দেখানো হয়েছে জীবিত! আবার কোথাও মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে জমি হস্তান্তরের নথি। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা বদলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বিতর্ক। এ বার সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল আদালত। পৃথক দু’টি মামলায় ভুয়ো নথির ভিত্তিতে তৈরি জমির দলিল বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সাঁকরাইলের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। অভিযোগ, এলাকার প্রায় ১২৫ জন চাষির মোট ৪০০ একর জমি, যার মধ্যে কৃষিজমি ও বসতভিটেও রয়েছে, ভুয়ো নথির সাহায্যে অন্যের নামে দলিল করে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রকৃত জমির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। জমির অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের একাংশ।
ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জেলার তৎকালীন রেজিস্ট্রার। পাশাপাশি, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ঝাড়গ্রামের সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) আদালতে মামলা করেন প্রতারিত জমির মালিকেরা।
সেই মামলাগুলির মধ্যে দু’টির শুনানি শেষে মঙ্গলবার ও বুধবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় আদালত। বাঁকড়া গ্রামের লক্ষণ মাহাতো এবং মনোজ মাহাতোর জমি সংক্রান্ত পৃথক দু’টি দলিল বাতিল করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে জমির প্রকৃত মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশার আলো দেখছেন এলাকার অন্য অভিযোগকারীরাও।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী গোপালবন্ধু আচার্য জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার সমন পাঠানো হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের কেউই আদালতে হাজির হননি বলে তাঁর বক্তব্য। সাক্ষ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর আদালত ভুয়ো নথির ভিত্তিতে তৈরি দু’টি দলিল বাতিল করেছে এবং প্রকৃত মালিকের জমির স্বত্ব কার্যকর করেছে বলে জানান তিনি।
এই মামলার অন্যতম অভিযোগকারী লক্ষণ মাহাতো জানিয়েছেন, তাঁর বাবার নামে জমি ছিল। তাঁর বাবা প্রায় ৩৬ বছর আগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, ২০২৫ সালে তাঁর বাবাকে অবিবাহিত ও মৃত দেখিয়ে ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে জমির দলিল করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর আইনি পথে লড়াই শুরু করেন তিনি।
আদালতের নির্দেশের পর লক্ষণ বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, একইভাবে জমি সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হওয়া এলাকার অন্য চাষিরাও তাঁদের জমির অধিকার ফিরে পাবেন।
এই ঘটনায় জমির মালিকানা যাচাই, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত শংসাপত্র তৈরি এবং দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে জমি হস্তান্তরের ঘটনা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে দু’টি দলিল বাতিলের নির্দেশ মিললেও অভিযোগ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বাকি জমির মালিকদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জমির অধিকার পুনরুদ্ধারে আরও কী পদক্ষেপ করা হয়, সে দিকেই এখন নজর রয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ অন্য প্রতারিত চাষিদের জন্যও পরবর্তী আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments