
নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের সময় সাধারণত দেশের পাশে দাঁড়ান তারকারা। কেউ সেনাদের উদ্দেশে বার্তা দেন, কেউ তহবিল সংগ্রহ করেন, কেউ আবার আহত জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে পৌঁছে যান। কিন্তু নানা পাটেকরের গল্পটা ছিল কিছুটা অন্য রকম। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় সিনেমার ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে তিনি নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন সেনাদের কাছে। শুধু তাঁদের সঙ্গে দেখা নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ৬০ দিন সেনাকর্মীদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন বলে পরে নিজেই জানিয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেতা।
নানা পাটেকরের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্পর্ক অবশ্য কার্গিল যুদ্ধের সময় থেকে শুরু হয়নি। ১৯৯১ সালের ছবি ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’-এ সেনা আধিকারিকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে দীর্ঘ এবং কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। বেলগাঁওয়ের রেজিমেন্টাল সেন্টারে চলেছিল সেই প্রশিক্ষণ। পরে টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে তাঁর যোগও তৈরি হয় এবং তিনি সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের মর্যাদা পান।
১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নানা পাটেকরের ইচ্ছে হয়, তিনি সেনাদের পাশে সরাসরি থাকবেন। সেই ইচ্ছা নিয়ে তিনি সেনার ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছয় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে।
পরবর্তী সময়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, ফার্নান্ডেজ প্রথমে তাঁকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু অভিনেতা তাঁকে নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের কথা জানান। ‘প্রহার’-এর জন্য দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, কমান্ডো ট্রেনিং এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এরপরই বিশেষ অনুমতি মেলে।
অনুমতি পাওয়ার পর কার্গিলের সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় সেনাদের সঙ্গে সময় কাটান নানা। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ দিন তিনি সেনাকর্মীদের সঙ্গে ছিলেন। দ্রাস, লেহ, কুপওয়ারা, বারামুল্লা ও সোপোরের মতো এলাকায় যাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এমনকি সেনার কুইক রিঅ্যাকশন টিম বা QRT-এর সঙ্গেও যুক্ত থাকার কথা বলেছিলেন তিনি।
তবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকার সময় ঠিক কী ধরনের সামরিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে বলতে চাননি নানা। যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার ব্যাপারে তিনি সতর্ক ছিলেন।
তাঁর এই অভিজ্ঞতার শারীরিক প্রভাবও ছিল যথেষ্ট। নানা জানিয়েছিলেন, সেনাদের সঙ্গে যাওয়ার সময় তাঁর ওজন ছিল প্রায় ৭৬ কেজি। ফিরে আসার সময় তা নেমে হয়েছিল প্রায় ৫৬ কেজিতে। অর্থাৎ প্রায় ২০ কেজি ওজন কমেছিল।
নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনে সেনা বা কঠোর চরিত্রের উপস্থিতি নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু কার্গিলের অভিজ্ঞতা তাঁর পর্দার চরিত্রগুলির বাইরে বাস্তব জীবনের একটি আলাদা অধ্যায় তৈরি করেছিল। যুদ্ধের সময় তিনি আহত সেনাদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার কাছাকাছিও ছিলেন। একটি সমকালীন প্রতিবেদনে তাঁকে সেনাদের সঙ্গে পোস্ট বদল করে চলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর তাঁর সেই পুরনো কার্গিল-কাহিনি ফের আলোচনায়। ৭৫ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগতে নেমেছে শোকের ছায়া। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি কার্গিলের সেই অধ্যায়ও থেকে গেল তাঁর জীবনের এক ব্যতিক্রমী স্মৃতি হিসেবে
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments