Last updated: October 8th, 2026 at 02:11 pm

নিউজ ডেস্ক: কালীপুজো মিটলেই আমূল বদলে যেতে চলেছে হাওড়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ শ্মশানঘাট—সালকিয়ার বাঁধাঘাট এবং শিবপুর শ্মশানঘাট। আধুনিক পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের বসা ও অপেক্ষার ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন করে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতার নিমতলা ও খিদিরপুর শ্মশানঘাটের আদলে এই দুই শ্মশানের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাওড়া পুরনিগম সূত্রে খবর, কালীপুজোর পরেই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার হাওড়া পুরনিগমের টাউন হলে প্রেরণা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে আসা মানুষ যাতে আরও ভালো পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনায় থাকছে আধুনিক দাহকার্য ব্যবস্থা। পাশাপাশি শ্মশানে আসা মৃতের পরিজনদের জন্য উন্নত বসার জায়গা, অপেক্ষাগার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিষেবা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শ্মশানে অপেক্ষা করতে হওয়া পরিবারের সদস্যদের যাতে অস্বস্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
শুধু পরিকাঠামো নয়, শ্মশান চত্বরের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শ্মশানঘাটের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই ধাপে ধাপে সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাঁধাঘাট শ্মশানের আধুনিকীকরণের কাজ শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। অন্য দিকে, শিবপুর শ্মশানঘাটের কাজ সম্পূর্ণ করতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ একদিনে নয়, পর্যায়ক্রমে দুই শ্মশানঘাটের চেহারা ও পরিষেবায় পরিবর্তন আনা হবে।
এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে প্রেরণা ফাউন্ডেশন। ইতিমধ্যেই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা হয়েছে। শুধু নির্মাণকাজেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। কাজ শেষ হওয়ার পর শ্মশানঘাট দু’টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্য দিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে হাওড়া পুরনিগম। পুরনিগমের কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা হবে। ফলে বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ এবং পুর প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিবপুর শ্মশানঘাটের সংস্কার নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। হাওড়া পুরনিগমের অধীনে শিবপুর গঙ্গাঘাটের RCC নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি টেন্ডারও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে কাজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫.৪২ লক্ষ টাকা এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা ১৫ দিন উল্লেখ করা হয়েছিল।
শুধু বাঁধাঘাট ও শিবপুর নয়, আগামী দিনে হাওড়ার আরও কয়েকটি শ্মশানঘাটকে পর্যায়ক্রমে আধুনিক পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। এর মধ্যে বাঁশতলা শ্মশানঘাট-সহ শহরের অন্যান্য শ্মশানগুলিকেও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শ্মশান কোনও সাধারণ জনপরিষেবা কেন্দ্র নয়। শোকের সময়ে মানুষ এখানে আসেন। তাই তাঁদের জন্য পরিষ্কার, নিরাপদ এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা-সম্বলিত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই দুই শ্মশানঘাটের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত।
কালীপুজোর পর কাজ শুরু হলে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান হবে পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে বাঁধাঘাট ও শিবপুর শ্মশানঘাট কতটা আধুনিক রূপ পায়, এখন সেদিকেই নজর হাওড়াবাসীর।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments