Last updated: October 5th, 2026 at 07:42 pm

নিউজ ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার রাতে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চার সাংবাদিক-সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল করে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছন ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী। তাঁদের কয়েক জনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ এবং বেসবল ব্যাটের মতো দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের লক্ষ্য ছিল হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধর করা—এমন দাবিও করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, প্রক্টর সেখানে যাওয়ার পর কয়েক জন অস্ত্র লুকিয়ে ফেলেন। পরে ফের অস্ত্র দেখা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা গোটা ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করতে এগিয়ে যান। অভিযোগ, সেই সময় দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবানও আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
এর পর হামলার খবর পেয়ে আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দ্য ডেইলি স্টারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং আগামীর সময়-এর প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। জাহিদুলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সব মিলিয়ে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সাংবাদিকেরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং মামলা দায়েরের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। সোমবার মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সামাজিকমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে দাবি। ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীব এবং রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের মধ্যে একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে ঘিরে বিবাদ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। সেই বিরোধের পরেই হলের সামনে অবস্থান ও উত্তেজনা তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার ভিডিয়ো ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তদন্তে কারা চিহ্নিত হন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments