Last updated: October 5th, 2026 at 08:23 pm

নিউজ ডেস্ক: সুরাট, গুজরাত বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দৃশ্যম’-এর কাহিনির মতোই বাবাকে খুনের ছক কষার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, বাবাকে হত্যার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে ফোন বন্ধ করে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিহারে পৌঁছেছিলেন অভিযুক্ত। সেখানে বাবাকে খুন করে ফের সুরাটে ফিরে এসে এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, যাতে ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ছিলেন বলে মনে হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি বিহারে হলেও কর্মসূত্রে স্ত্রীকে নিয়ে সুরাটে থাকতেন ২৬ বছরের শিবশঙ্কর। জমি বিক্রি নিয়ে বাবা রঘুবীর সাহনির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই পারিবারিক বিবাদের জেরেই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই সুরাট থেকে বিহারের সমস্তিপুরে পৌঁছন শিবশঙ্কর। রাতের দিকে বাড়িতে ঢুকে ঘরের বাইরে ঘুমিয়ে থাকা তাঁর ৫০ বছর বয়সি বাবা রঘুবীরকে কুঠার দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটির পর ফের সুরাটে ফিরে যান তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের পর নিজের জন্য একটি ‘অ্যালিবাই’ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত। ঘটনার সময় তিনি সুরাটেই ছিলেন—এমনটা প্রমাণ করতে ফোন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে পুলিশের বক্তব্য। কিন্তু তদন্তে প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা দেয়।
পুলিশের নজরে আসে, খুনের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অভিযুক্তের ফোনের লোকেশন কিছুক্ষণের জন্য বিহারের পাটোরি এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় ফোনটি এক বার চালু করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন শিবশঙ্কর। পরে ফের ফোন বন্ধ করে দেন তিনি। সেই ফোন লোকেশন এবং অন্যান্য তথ্যের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা তাঁর গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ করেন।
এর পর সুরাট থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে শিবশঙ্কর জানিয়েছেন, ‘দৃশ্যম’ সিনেমা দেখে তিনি এই ধরনের পরিকল্পনা করার ধারণা পেয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে সম্প্রতি ‘দৃশ্যম ৩’ মুক্তি পেয়েছে এবং অভিযুক্ত সেই সিনেমাটিও হলে গিয়ে দেখেছেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে সিনেমার পর্দায় পরিকল্পনা যতই নিখুঁত মনে হোক, বাস্তবের তদন্তে প্রযুক্তিগত প্রমাণই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নেয়। ফোনের লোকেশন, কলের তথ্য এবং অভিযুক্তের যাতায়াতের সূত্র মিলিয়ে পুলিশ ঘটনার রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। বাবার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধই হত্যার মূল কারণ ছিল কি না, ঘটনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না এবং হত্যার আগে কতটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments