Homeজেলাঅস্থায়ী কর্মী ৪৬০ জন, বেতন দিতে গিয়েই দেউলিয়া NBU

অস্থায়ী কর্মী ৪৬০ জন, বেতন দিতে গিয়েই দেউলিয়া NBU

eisamay_2026-06-30_64czlj6l_nbu-gate-2-nbu-main-gate-siliguri-universities-gZJpTA5w4M

নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি, দার্জিলিংঅস্থায়ী কর্মীদের বেতন মেটাতেই আর্থিক সঙ্কটে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। ৪৬০ জন অস্থায়ী কর্মীর বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বছরে সেই খরচের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা। অথচ এই বিপুল ব্যয় বহন করার মতো স্থায়ী আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে নেই। ফলে একের পর এক আর্থিক চাপ সামলাতে গিয়ে কার্যত দিশেহারা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রবিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সমিতির রজতজয়ন্তী বর্ষ সমাপন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সমর বিশ্বাস আর্থিক সঙ্কটের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার নেয়নি। ফলে নিজেদের তহবিল থেকেই সেই অর্থ মেটাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য খরচ সামলানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। রাজ্য সরকার দ্রুত অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের দায়িত্ব না নিলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ও খুব বেশি নয়। কয়েকটি সেল্ফ-ফিনান্স কোর্স, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনার বিনিময়ে পাওয়া কমিশন এবং দূরশিক্ষা ব্যবস্থার আয়—এই কয়েকটি উৎসের উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থভান্ডার অনেকটাই নির্ভরশীল। সেই সীমিত আয়ের মধ্যে থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি অস্থায়ী কর্মীদের বেতন মেটানোয় আর্থিক ভার আরও বেড়েছে।

শুধু আর্থিক সমস্যাই নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতার মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় আড়াই বছর ধরে উপাচারীর পদ শূন্য। পরীক্ষা নিয়ামক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সমাবর্তন অনুষ্ঠান না হওয়ায় পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন কিছু পড়ুয়া।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মী এবং পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সঙ্কট কাটাতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু অস্থায়ী কর্মীদের বেতন নয়, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলিতে নিয়োগও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাক্তনী সমিতির অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। এখন রাজ্য সরকার অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের দায়িত্ব নেয় কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সঙ্কট কাটাতে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর উত্তরবঙ্গের শিক্ষা মহলের।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved