Last updated: October 5th, 2026 at 01:56 pm

নিউজ ডেস্ক: বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ফসলের জমি ঘিরে বৈদ্যুতিক ফেন্স তৈরি করে হাতি হত্যার ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ উঠেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা মহলের বক্তব্য, বিদ্যুতের বেআইনি ব্যবহার করে কোনও হাতির মৃত্যু হলে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, অভিযুক্তের বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই প্রস্তাবের মধ্যে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার সুপারিশ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জঙ্গল ও হাতি চলাচলের করিডর লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাত নতুন নয়। খাবারের সন্ধানে হাতির দল অনেক সময় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে চাষের জমি বা লোকালয়ের কাছে চলে আসে। ফসল বাঁচাতে কিছু জায়গায় বেআইনি ভাবে বিদ্যুতের তার টেনে ফেন্সিং তৈরি করার অভিযোগ ওঠে। সেই তারে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। হাতি সেই তারের সংস্পর্শে এলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে আগেও হাতির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বেআইনি বৈদ্যুতিক ফেন্সিং এবং অনুমোদনহীন ভাবে বিদ্যুৎ লাইনের সম্প্রসারণকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২০ সালের এক বৈঠকে উত্তরবঙ্গে হাতির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিশেষ অ্যান্টি-ইলেকট্রোকিউশন সেল তৈরির সিদ্ধান্তের কথাও সামনে এসেছিল। বন দফতর ও বিদ্যুৎ সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, হাতি করিডরের তার ইনসুলেট করা এবং বেআইনি ফেন্সিং বন্ধ করার মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। হাতির চলাচলের রাস্তার আশপাশে কোথায় বেআইনি ফেন্সিং তৈরি হয়েছে, কোথা থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে এবং কারা সেই সংযোগ ব্যবহার করছেন—তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করাও প্রয়োজন।
দেশের অন্যান্য হাতি অধ্যুষিত এলাকাতেও বেআইনি বৈদ্যুতিক ফেন্সিং নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে দেশে বিভিন্ন অস্বাভাবিক কারণে ৫২৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছিল। তার মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৯২। অর্থাৎ হাতি মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ।
সম্প্রতি তামিলনাড়ুতেও বেআইনি বৈদ্যুতিক ফেন্সে হাতি হত্যার ঘটনায় আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ফলে বেআইনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির নজিরও তৈরি হয়েছে।
বন দফতর, বিদ্যুৎ দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে, হাতি করিডরের পাশে বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেআইনি সংযোগের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—ফসল রক্ষার নামে যাতে বিদ্যুৎ আর বন্য হাতির মৃত্যুফাঁদ না হয়ে ওঠে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments