Homeজেলারাস্তায় দৌড়চ্ছে দলছুট হাতি, দুই পড়ুয়াকে কোলে নিয়েই ধানখেতে ঝাঁপ টোটোচালকের, বরাতজোরে রক্ষা

রাস্তায় দৌড়চ্ছে দলছুট হাতি, দুই পড়ুয়াকে কোলে নিয়েই ধানখেতে ঝাঁপ টোটোচালকের, বরাতজোরে রক্ষা

resizeplus_images (23)

নিউজ ডেস্ক: রাস্তার উপর আচমকাই ছুটে এল দলছুট হাতি। সেই সময় টোটোয় সওয়ার ছিল দুই স্কুলপড়ুয়া। সামনে বিশাল হাতিকে দেখতে পেয়েই বিপদ বুঝতে পারেন চালক। এক মুহূর্তও দেরি না করে দুই পড়ুয়াকে কোলে তুলে নিয়ে টোটো-সহ রাস্তার পাশের ধানখেতে ঝাঁপ দেন তিনি। তাঁর তৎপরতায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল দুই পড়ুয়া-সহ টোটোচালক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের বিনপুরের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই দুই স্কুলপড়ুয়াকে নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল টোটোটি। আচমকাই সামনে চলে আসে একটি দলছুট হাতি। হাতিটিকে দেখতে পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চালক। হাতিটি দ্রুত রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে টোটো ঘুরিয়ে পালানোরও কার্যত সুযোগ ছিল না।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চালক সঙ্গে সঙ্গে টোটো থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই পড়ুয়াকে বিপদের মধ্যে রেখে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে দুই শিশুকে কোলে তুলে নেন। এরপর হাতির মুখোমুখি না হয়ে রাস্তার পাশের ধানখেতের দিকে টোটো ঘুরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত টোটো-সহ ধানখেতে ঝাঁপ দেন তিনি।

ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন ছুটে এসে ধানখেত থেকে দুই পড়ুয়া ও টোটোচালককে উদ্ধার করেন। সৌভাগ্যক্রমে তাঁদের কারও গুরুতর আঘাত লাগেনি। তবে ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দুই পড়ুয়া।

এদিকে, হাতিটি রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার পর বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। বনকর্মীরা এলাকায় পৌঁছে হাতিটির গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেন। হাতিটি কোন দিক থেকে লোকালয়ের কাছে এসেছিল এবং পরে কোন পথে জঙ্গলের দিকে চলে গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হাতিটি এলাকায় ঢুকে পড়েছিল বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান স্থানীয়দের।

ঝাড়গ্রামের বিনপুর-সহ জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই হাতির আনাগোনা দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে হাতির দল কখনও ধানখেত, কখনও বসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি চলে আসে। ফলে হাতি ও মানুষের সংঘাতের আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতের সময় এমন ঘটনা ঘটলে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জঙ্গল লাগোয়া রাস্তাগুলিতে বন দফতরের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। হাতির গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করা গেলে অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বিপদ। পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে হাতির সামনে না যাওয়ার বিষয়ে নিয়মিত সচেতন করার দাবিও উঠেছে।

এদিনের ঘটনায় টোটোচালকের উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। দুই পড়ুয়াকে কোলে নিয়ে নিজের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ধানখেতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved