Homeপূর্ব মেদিনীপুরপূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরচালের অভাবে অঙ্গনওয়াড়িতে বন্ধ খিচুড়ি, পুষ্টিকর খাবার না পেয়ে সমস্যায় শিশু ও প্রসূতিরা

চালের অভাবে অঙ্গনওয়াড়িতে বন্ধ খিচুড়ি, পুষ্টিকর খাবার না পেয়ে সমস্যায় শিশু ও প্রসূতিরা

resizeplus_eisamay_2026-09-30_88qybqb3_Lead-image-06-2

নিউজ ডেস্ক: চালের জোগান না থাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বন্ধ হয়ে গেল শিশু ও প্রসূতিদের জন্য রান্না করা খিচুড়ি। এমনই অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকায়। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার কথা থাকলেও চালের অভাবে রান্না বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং প্রসূতিরা। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে নিয়মিত রান্না করা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খিচুড়ি সেই খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাল সময়মতো না পৌঁছনোয় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে রান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে নির্ধারিত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপভোক্তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ছোট ছোট শিশুর পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলারাও পুষ্টিকর খাবারের উপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এই খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় চালের অভাবে খিচুড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রগুলির পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অভিভাবকদের একাংশের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাবার শুধুমাত্র একটি সাধারণ দুপুরের খাবার নয়। শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং তাঁদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে এই খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে কোনও কারণে সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার প্রয়োজন। কিন্তু দিনের পর দিন রান্না বন্ধ থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের উপর।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চালের মতো অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর সরবরাহে কেন সমস্যা তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ ব্যবস্থা কোথায় আটকে রয়েছে এবং কবে থেকে ফের নিয়মিত রান্না করা খাবার দেওয়া হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের একাংশও। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী হাতে না থাকলে নিয়ম মেনে রান্না করা সম্ভব নয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই পরিষেবা ফের আগের মতো চালু করা যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা বা সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে শিশু ও প্রসূতিদের পুষ্টিকর খাবার বন্ধ রাখা কোনওভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে খিচুড়ি রান্না শুরু করার দাবি উঠেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি পুষ্টি প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের জন্য খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থায় কেন এমন ঘাটতি তৈরি হল? প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে কি না, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved