Homeদেশমিঠি নদী তছরুপ মামলায় ডিনো মোরিয়াকে ছয় ঘণ্টা জেরা, কোটি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখছে EOW

মিঠি নদী তছরুপ মামলায় ডিনো মোরিয়াকে ছয় ঘণ্টা জেরা, কোটি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখছে EOW

resizeplus_WhatsApp Image 2026-10-03 at 5.08.13 PM

নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়াকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্য। মুম্বইয়ের মিঠি নদী ডি-সিল্টিং প্রকল্পে প্রায় ৬৫.৫৪ কোটি টাকার কথিত আর্থিক অনিয়মের মামলায় শুক্রবার তাঁকে প্রায় ছয় ঘণ্টা জেরা করল মুম্বই পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস উইং বা EOW। তদন্তকারীরা অভিনেতার সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনের আর্থিক যোগসূত্র এবং বিভিন্ন লেনদেনের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার প্রথমে ডিনো মোরিয়ার বান্দ্রার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সেখানে কয়েকটি নথিও খতিয়ে দেখা হয়। পরে তাঁকে মুম্বই পুলিশ সদর দফতরে EOW-এর ইউনিট ৪-এর দফতরে নিয়ে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব।

মিঠি নদী পরিষ্কার ও পলি তোলার কাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে। অভিযোগ, নদী থেকে পলি তোলার কাজ, তার পরিমাণ, যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট বিল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের প্রায় ৬৫.৫৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। EOW এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এই মামলায় ডিনো মোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আর্থিক লেনদেনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী কেতন কদমের সঙ্গে তাঁর আর্থিক যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ডিনো ও কেতনের মধ্যে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। সেই টাকা কোন উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল এবং মিঠি নদীর প্রকল্পের কথিত অনিয়মের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।

এর আগে ২০২৫ সালেও এই মামলায় ডিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল EOW। একই ঘটনায় পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED-ও পৃথক ভাবে অর্থপাচারের অভিযোগের দিকটি খতিয়ে দেখে। ২০২৫ সালের জুনে ED মুম্বই, কোচি ও ত্রিশূরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত এবং বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ডিনো মোরিয়াকে এই মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে—এমন তথ্য নির্ভরযোগ্য রিপোর্টে নেই। EOW-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবারের জেরার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আর্থিক লেনদেনের নথি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কার্যকলাপ এবং মিঠি নদী পরিষ্কার প্রকল্পে অর্থের গতিপথ। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও কারা জড়িত এবং সরকারি অর্থের কথিত অনিয়মের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা স্পষ্ট হতে পারে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved