
নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার করিমপুর-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা ভোটকে ঘিরে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে তৎকালীন সভাপতি অপসারিত হয়েছেন। ১৩-০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থী জয়ন্ত সাহা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সভাপতির নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাজে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, সভাপতির অনুপস্থিতির কারণে পঞ্চায়েত সমিতির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর সভাপতিকে অপসারণের দাবিতে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই প্রস্তাবে সিপিআইএম, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা যৌথ ভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর নির্ধারিত দিনে বসে অনাস্থা সভা। সেখানে বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিআইএম—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। ভোটাভুটির শেষে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৩টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে কোনও ভোট পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ১৩-০ ব্যবধানে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এই ভোটাভুটির পর বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থী জয়ন্ত সাহার জয়কে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ফল প্রকাশের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশকে আবির খেলায় মেতে উঠতে এবং বিজয় উদ্যাপন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তবে পঞ্চায়েত সমিতির অভ্যন্তরীণ এই পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতিতে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সমর্থনে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অন্যদিকে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এই পরিবর্তনকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জয় হিসেবে না দেখে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। আগামী দিনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে রেখে পঞ্চায়েত সমিতির উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এবং অনাস্থা ভোটের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয় সূত্রে উঠে আসা অভিযোগ ও দাবির পাশাপাশি প্রশাসনিক নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments