Homeজেলাতৃণমূলের উপপ্রধানের পদত্যাগের পর বাবলা পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির তপন বিশ্বাস

তৃণমূলের উপপ্রধানের পদত্যাগের পর বাবলা পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির তপন বিশ্বাস

resizeplus_Screenshot 2026-09-30 142207_edited

দেবকুমার মিত্রের: শান্তিপুর ব্লকের বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতে ফের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল। তৃণমূলের উপপ্রধানের পদত্যাগের পর এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন উপপ্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির তপন বিশ্বাস। বুধবার উপপ্রধান নির্বাচনকে ঘিরে বাবলা পঞ্চায়েত এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। আবীর খেলায় মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। নবনির্বাচিত উপপ্রধান তপন বিশ্বাসকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতা-কর্মীরা। পরে উচ্ছ্বাসে বিজয় মিছিলও বের হয়।

জানা গিয়েছে, বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। পঞ্চায়েত প্রধান সুস্মিতা মণ্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১০ জন বিজেপি, ১৫ জন তৃণমূল এবং একজন নির্দল সদস্য ছিলেন। তৃণমূলের উপপ্রধান পদত্যাগ করার পর নতুন উপপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই নির্বাচনেই বিজেপির তপন বিশ্বাসের নাম সামনে আসে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের কোনও সদস্য উপস্থিত না থাকায় তপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকেই বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন উপপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পরই পঞ্চায়েত চত্বরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুস্মিতা মণ্ডল বলেন, তাঁদের পঞ্চায়েতে সদস্যদের রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এতদিন যেভাবে পঞ্চায়েত পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। আগামী দিনে গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ আরও বেশি করে করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, নবনির্বাচিত উপপ্রধান তপন বিশ্বাস দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজ হিসেবে এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবেন। গ্রামের উন্নয়নের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি।

এদিন তপন বিশ্বাসকে ঘিরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। তাঁর গায়ে ও মুখে আবীর মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মীরা। পরে ফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে নিয়ে বিজয় মিছিলও করা হয়। মিছিল ঘিরে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।

শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নিপেন মণ্ডলও এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানান। তাঁর দাবি, তৃণমূলের উপপ্রধান পদত্যাগ করার পর এবার বাবলা অঞ্চলে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ যাতে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই কাজ করার কথা জানান তিনি।

তবে পঞ্চায়েতে সংখ্যার সমীকরণ এবং নতুন উপপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী দিনে বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের। নতুন উপপ্রধানের হাত ধরে উন্নয়নমূলক কাজের গতি কতটা বাড়ে, সেটাই এখন দেখার।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved