Homeরাজ্যমিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

eisamay_2026-09-30_a0zg4z7a_milan-pradhan

নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্যের আবেদন বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। তবে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আর্জি নিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য।

কলকাতা হাই কোর্ট মঙ্গলবার মিলন প্রধানকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ছ’টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তিনি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন। হাই কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবী দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানান। কারণ, নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ আগামী ৬ অক্টোবর। ফলে তার আগেই হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশের উপর শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিল রাজ্য।

এই আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যের জরুরি শুনানির আর্জি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের তরফে এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে যে আবেদনটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে বলে PTI-ভিত্তিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

মিলন প্রধানের জামিনের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক আইনি পর্ব চলছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়কার একাধিক পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর জামিনের আবেদন কলকাতা হাই কোর্টে যায়।

কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ মঙ্গলবার ছ’টি মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। নির্দেশে বলা হয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে তাঁকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

এর আগে হাই কোর্টে শুনানির সময় বিচারপতি ঘোষ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে মিলন প্রধানকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছেন। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিল, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া মানেই মূল মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া নয়; সেগুলির বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে।

এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে মিলন প্রধানের জামিন নিয়ে শীর্ষ আদালতের অবস্থান তাঁর নির্বাচনী প্রচার ও আইনি অবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবারের শুনানির পর মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved