
নিউজ ডেস্ক:ফসলের খেতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল তিনটি হাতির। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকায় ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি এবং দুটি শাবক রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই তদন্তে নেমেছে বন দফতর ও পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি হাতির দল খাবারের সন্ধানে কৃষিজমির দিকে চলে আসে। সেই সময় একটি মা হাতি এবং তার সঙ্গে থাকা দুই শাবক একটি ফসলের জমিতে ঢুকে পড়ে। জমিতে সেচের জন্য বসানো শ্যালো পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগের সংস্পর্শে আসার পরই বিপত্তি ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে খবর দেন বন দফতর ও পুলিশকে। খবর পেয়ে শালবনি থানার পুলিশ এবং বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এলাকাটি ঘিরে শুরু হয় তদন্ত।
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপরই শ্যালো পাম্পের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ওই বৈদ্যুতিক সংযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৃত হাতি তিনটির ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজমির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ ও তারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেআইনি বা বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরাও এলাকায় পরিদর্শন করছেন বলে জানা গিয়েছে।
জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির আনাগোনা নতুন ঘটনা নয়। খাবারের সন্ধানে প্রায়ই হাতির দল চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে একদিকে ফসল রক্ষা, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা—দুই দিক সামলানোই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুরক্ষিত বৈদ্যুতিক তার বা বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্যপ্রাণীর জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ঘটনাটি নিছক বৈদ্যুতিক গাফিলতির ফল, নাকি হাতির গতিবিধি আটকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও বিপজ্জনক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং দায় কার, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments