
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট: গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাকদহে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৮টি নামী ব্র্যান্ডের ট্যাব উদ্ধার করল পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ট্যাবগুলির অধিকাংশই নতুন এবং সিল-প্যাক অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় সুব্রত রায় এবং কুমারেশ হাওলাদার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৩ সেপ্টেম্বর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চাকদহের কেবিএম এলাকায় অভিযান চালায় থানার পুলিশ। প্রথম দফার অভিযানে সুব্রত রায়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি নতুন ট্যাব। এরপর দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে আরও কিছু তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। সেই সূত্র ধরেই পরবর্তী অভিযান চালিয়ে আরও আটটি ট্যাব উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ট্যাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮।
রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশীষ মৌর্য জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ১৮টি ট্যাবের মধ্যে ১৭টি সম্পূর্ণ নতুন এবং সিল-প্যাক অবস্থায় ছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনও ই-কমার্স সংস্থার কনসাইনমেন্ট ডেলিভারির সময় অথবা সংশ্লিষ্ট গোডাউন থেকে ট্যাবগুলি চুরি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ঠিক কোথা থেকে এবং কী ভাবে এই বিপুল সংখ্যক ট্যাব অভিযুক্তদের হাতে এল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে ট্যাবগুলির আসল মালিকানা এবং এগুলি কোনও নির্দিষ্ট কনসাইনমেন্টের অংশ কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের আরও অনুমান, এই ঘটনায় শুধু ধৃত দুই ব্যক্তি নয়, আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন আধিকারিকেরা। উদ্ধার হওয়া ট্যাবগুলির সিরিয়াল নম্বর এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে সেগুলির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
একসঙ্গে এতগুলি নতুন ও সিল-প্যাক ট্যাব উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাকদহ এলাকায়। বিশেষ করে ই-কমার্স সংস্থার কনসাইনমেন্ট বা গোডাউন থেকে সামগ্রী সরানোর সম্ভাবনার কথা পুলিশের তরফে জানানোয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করেছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রী সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও কোনও ব্যক্তির নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।
এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ১৮টি ট্যাবের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্যাবগুলি চুরির সঙ্গে কী ভাবে যুক্ত এবং এই ঘটনায় আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments