Last updated: September 29th, 2026 at 06:31 pm

নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট:কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগে দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সোমবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সদর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়েছে।
এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশের দিকে যথেষ্ট নজর না দিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না। বিশেষ করে গাড়ির তেলের খরচ বাবদ ভুয়ো বিল দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। তাদের দাবি, কোথাও দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত এমন বিলের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি সংগঠনের।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। এবিভিপির তরফে তদন্ত করে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত উপাচার্যের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্তের উপরই নির্ভর করছে।
এ দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এবিভিপি নেতৃত্ব জানায়, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবে না। শুধু মহকুমা শাসকের দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়েই আন্দোলন থামছে না বলেও জানানো হয়েছে। আগামী দিনে জেলা শাসকের কাছেও ডেপুটেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের। প্রয়োজনে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
তবে সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় নজরে এসেছে। বিক্ষোভে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। মূলত এবিভিপি এবং বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতেই কর্মসূচি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এবিভিপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
এখন এবিভিপির স্মারকলিপির ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলির বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments