Homeউত্তর দিনাজপুররায়গঞ্জমৃত্যু অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার, দায়ের হয়নি অভিযোগও, নীরব পরিবার

মৃত্যু অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকার, দায়ের হয়নি অভিযোগও, নীরব পরিবার

resizeplus_Screenshot 2026-09-24 155737

নিউজ ডেস্ক; উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা এক নাবালিকার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। পেটে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ বছরের ওই কিশোরীর। সূত্রের খবর, মৃত্যুর সময় সে অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কিন্তু এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকার সঙ্গে রায়গঞ্জের ২১ বছরের এক যুবকের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে। বর্তমানে ওই শিশুর বয়স প্রায় আড়াই বছর। এর মধ্যেই ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল কিশোরীটি বলে সূত্রের দাবি।

দিন কয়েক আগে আচমকা পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ মৃত্যু হয় তার।

ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে নাবালিকার বয়স ও বিয়ের সময়কাল নিয়ে। প্রায় চার বছর আগে বিয়ে হয়ে থাকলে তখন তার বয়স কত ছিল, সেই বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে মৃতার দুই পরিবারের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের নীরবতা নিয়ে স্থানীয় স্তরেও নানা প্রশ্ন উঠছে। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে রাখা হয়। বুধবার ময়নাতদন্তের সময়ও মৃতার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে হাসপাতালে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃতার বোন আলিপুরদুয়ার থেকে এসে শেষবারের মতো তাঁকে দেখেন।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কী ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এত অল্প বয়সে বিয়ে এবং পরপর গর্ভধারণের পরও কেন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এল না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে কোনও অভিযোগ বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ কিংবা ঘটনার পিছনে কারও দায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved