Homeবীরভূমমহম্মদবাজারআদালতে স্বস্তি মিলল না টুলু মণ্ডলের, রক্ষাকবচ ও FIR খারিজের আবেদন খারিজ

আদালতে স্বস্তি মিলল না টুলু মণ্ডলের, রক্ষাকবচ ও FIR খারিজের আবেদন খারিজ

নিউজ ডেস্ক; বীরভূমের মহম্মদবাজারের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের জন্য কলকাতা হাই কোর্টে সোমবারও স্বস্তির কোনও খবর এল না। গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়ে করা আবেদন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর
resizeplus_eisamay_2026-09-22_jxm1qm89_tulu

নিউজ ডেস্ক; বীরভূমের মহম্মদবাজারের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের জন্য কলকাতা হাই কোর্টে সোমবারও স্বস্তির কোনও খবর এল না। গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়ে করা আবেদন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি—দুই ক্ষেত্রেই আদালতের কাছ থেকে সাড়া পেলেন না তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ সোমবার টুলুর করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

টুলুর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিসও জারি হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। সিউড়িতে তাঁর বাড়ি ‘দলিলা ভবন’-এ নিম্ন আদালতের নির্দেশে হুলিয়াও সাঁটানো হয়েছে। সিউড়ি আদালতের এসিজেএম-এর নির্দেশেই ওই পদক্ষেপ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে টুলুর আবেদন ঘিরে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতের সামনে মামলাকারীর অবস্থান নিয়ে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন। রাজ্যের দাবি, ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মে দেশ ছেড়েছেন টুলু। অর্থাৎ, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলেই ওই তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, নিম্ন আদালত টুলুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও তিনি হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে যে ধারাগুলি রয়েছে, সেগুলি জামিন অযোগ্য বলেও আদালতকে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়।

শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট সিল করা খামে আদালতে জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্যও বিচারপতির কাছে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেন টুলুর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে, তা ওই রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট হবে।

অন্য দিকে, টুলু মণ্ডলের আইনজীবী রাজ্যের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কেন টুলুকে ‘পলাতক’ বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর মক্কেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে আপত্তি করছেন না বলেও আদালতে জানানো হয়। তবে একই সঙ্গে রক্ষাকবচ দেওয়ার আবেদন রাখা হয়।

টুলুর পক্ষ থেকে মূলত দু’টি আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রথমত, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল করার আর্জি। দ্বিতীয়ত, গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেতে আদালতের রক্ষাকবচ। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সোমবার সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

শুনানিতে উঠে আসে দাউদ ইব্রাহিম মামলার প্রসঙ্গও। আদালতের তরফে বলা হয়, কোনও ব্যক্তির দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা বা সন্দেহ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা যেতে পারে। এই পর্যবেক্ষণও মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি এ দিনের শুনানিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর সিউড়ির বাড়িতে হুলিয়া সাঁটানো এবং রেড কর্নার নোটিস জারির বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরে রাজ্য। সেই পরিস্থিতিতে টুলুর রক্ষাকবচের আবেদন মঞ্জুর করা হলে তদন্তকারী সংস্থার কাজ কতটা প্রভাবিত হতে পারে, তা নিয়েও রাজ্যের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়।

অন্য দিকে, টুলুর আইনজীবী আদালতের সামনে তাঁর মক্কেলের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে তাঁর আপত্তি নেই—এই যুক্তির পাশাপাশি গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষার আবেদনও জানানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আর্জিতে আদালতের অনুমোদন মেলেনি।

ফলে সোমবারের শুনানির পর টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও বহাল রইল। গ্রেফতারি পরোয়ানা, হুলিয়া এবং রেড কর্নার নোটিসের মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রয়েছে। তার উপর কলকাতা হাই কোর্ট থেকেও রক্ষাকবচ না মেলায় তাঁর পক্ষে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠল। একই সঙ্গে এফআইআর বাতিলের আবেদনও খারিজ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মামলাটি আপাতত বহাল থাকছে।

No Comments