Homeঝাড়গ্রামবৃদ্ধাকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা-সহ আট জন দোষী সাব্যস্ত

বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা-সহ আট জন দোষী সাব্যস্ত

নিউজ ডেস্ক; জমি দখলকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ঝাড়গ্রামের তৃণমূল নেতা গৌরাঙ্গ প্রধান-সহ আট জন। সোমবার ঝাড়গ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে মামলার শুনানি
images (7)_edited

নিউজ ডেস্ক; জমি দখলকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ঝাড়গ্রামের তৃণমূল নেতা গৌরাঙ্গ প্রধান-সহ আট জন। সোমবার ঝাড়গ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে মামলার শুনানি শেষে বিচারক অরবিন্দ মিশ্র আট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা এই মামলায় আদালতের রায় ঘিরে ঝাড়গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত আট জন হলেন গৌরাঙ্গ প্রধান, রাহুল মুখোপাধ্যায়, সাধন সিংহ, তাপস দাস, গৌর দণ্ডপাট, রানাপ্রতাপ সিংহ, তন্ময় দাস এবং গৌরীপ্রসাদ সিংহ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকলেই ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা।

দোষী সাব্যস্ত গৌরাঙ্গ প্রধান ঝাড়গ্রাম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেন বলে জানা গিয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ২০১৩ সালের মে মাসের। ঝাড়গ্রামের বেনেগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা সাবিত্রী সরকারের প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়েছিল। পুলিশের দাবি, ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু বৃদ্ধা জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তাঁর ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্যত্র থাকায় বাড়িতে মূলত একাই থাকতেন সাবিত্রী।

অভিযোগ, ২০১৩ সালের ২৮ মে গৌরাঙ্গ প্রধান কয়েক জন সঙ্গীকে নিয়ে সাবিত্রী সরকারের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে মারধর ও হেনস্থার পর তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ৩১ মে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাবিত্রী সরকারের। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে সঞ্জয় সরকারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

প্রথমে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। পরে বৃদ্ধার মৃত্যু হলে মামলায় খুনের ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তে গৌরাঙ্গ প্রধান-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারও করেছিল। তবে এই মামলায় আরও কয়েক জন অভিযুক্ত দীর্ঘদিন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন বলে জানা যায়।

মামলার তদন্ত চলাকালীন গৌরাঙ্গ প্রধান প্রায় চার মাস সংশোধনাগারে ছিলেন। পরে মেদিনীপুর জেলা আদালতে জামিনের আবেদন জানালে তিনি জামিন পান। এরপর মামলায় অভিযুক্ত অন্যরাও জামিনে মুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এ দিকে গৌরাঙ্গ প্রধান জেলে থাকাকালীনই পুলিশ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেয়। তৎকালীন ঝাড়গ্রাম মহকুমা আদালতে তদন্তের নথি ও চার্জশিট পেশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয় এবং শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুনানিতে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথি আদালতে পেশ করা হয়। সেই বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক আট অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে আদালত তাঁদের কী সাজা দেবে, তা এখনও ঘোষিত হয়নি। দোষী সাব্যস্ত করার পরবর্তী পর্যায়ে সাজা ঘোষণা করবে আদালত। ফলে এখন নজর রয়েছে সাজা ঘোষণার দিকে।

২০১৩ সালের সেই ঘটনার পর প্রায় ১৩ বছর কেটে গেলেও মামলাটি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ ছিল। বৃদ্ধা সাবিত্রী সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অবশেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছল।

এখন আদালত দোষী সাব্যস্ত আট জনের ক্ষেত্রে কী সাজা ঘোষণা করে, সেটাই দেখার। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেও নজর রয়েছে।

No Comments